Wednesday, 28 February 2018
সূরা আন নূর এর 11-16 আয়াত পর্যন্ত বাংলা অনুবাদ
সূরা আন-নূর ( মদীনায় অবতীর্ণ ), আয়াত সংখাঃ ৬৪
আরবী থেকে বাংলা অনুবাদ ১১- ১৬ আয়াত
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়,অতি দয়ালু
إِنَّ الَّذِينَ جَاؤُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُم مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
11
যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ
12
তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?
لَوْلَا جَاؤُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاء فَأُوْلَئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ
13
তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
14
যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত।
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ
15
যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।
وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
16
তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ তো পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ।
আরবী থেকে বাংলা অনুবাদ ১১- ১৬ আয়াত
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়,অতি দয়ালু
إِنَّ الَّذِينَ جَاؤُوا بِالْإِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنكُمْ لَا تَحْسَبُوهُ شَرًّا لَّكُم بَلْ هُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُم مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْإِثْمِ وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ
11
যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা তোমাদেরই একটি দল। তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। তাদের প্রত্যেকের জন্যে ততটুকু আছে যতটুকু সে গোনাহ করেছে এবং তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্যে রয়েছে বিরাট শাস্তি।
لَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ
12
তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?
لَوْلَا جَاؤُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاء فَأُوْلَئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ
13
তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।
وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
14
যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত।
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ
15
যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।
وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ
16
তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ তো পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ।
হায়াতুন্নবী বা জিন্দা নবী বলা যাবে কি?, কোরআন হাদিস কি বলে
কোরআন-হাদিসের আলোকে “হায়াতুন্নবী” বা জিন্দা নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রমাণ
ফেসবুকে অনেক ভাই-বোনদের ভ্রান্ত আক্বিদা দেখে অভাক হই,তাই চেষ্টা করি কোরআন-হাদিসের আলোকে সমাধান দিতে।এক ভাই তার স্ট্যাটাসের মধ্যে কিছু কোরআনের আয়াত দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হায়াতুন্নবী নবী,জিন্দা নবী অস্বীকার করেছে, মৃত নবী বলে নবীপাকের শানে বিয়াদবী করেছে।এ জন্যই এই পোস্টটি করার মূল উদ্দেশ্য।পোস্টটি একটু লম্বা হয়ে গেছে,দয়া করে একটু কষ্ট করে পুরো পোস্টটি পড়বেন।
“প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।”
(সুরা আলে ইমরান,আয়াত ১৮৫)
নবী – রাসুলগণ (আলাইহিস সালাম) এর মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই।
আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন:–
ﻭَﻻَ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻟِﻤَﻦْ ﻳُﻘْﺘَﻞُ ﻓِﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻣْﻮَﺍﺕٌ ﺑَﻞْ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀ
ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ 154 – )
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না।বরং তারা জীবিত।তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।
{সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে,শহীদগণ কবরে জীবিত।
নোট: দেখুন শহীদগণ মৃত্যুর পরেও তারা জীবিত,সুতরাং এইখানে মৃত্যু হচ্ছে ইহকাল থেকে পরকালে যাবার
একটি সেতু ,শহীদগনের অনেক উর্দ্ধে নবীদের স্থান!
আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ব্যাপারে আসছে:
ﻛَﻴْﻒَ ﺇِﺫَﺍ ﺟِﺌْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺃﻣَّﺔٍ ﺑِﺸَﻬِﻴﺪٍ ﻭَﺟِﺌْﻨَﺎ ﺑِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻫَـﺆُﻻﺀ
ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ
“তবে কেমন হবে যখন আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, এবং হে মাহবুব! আপনাকে তাদের সবার ব্যাপারে সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারীস্বরূপ উপস্থিত করবো?” (৪:৪১)
মহানবী,( ﷺ ) যা জানেন না বা দেখেননি সে সম্পর্কে তো তাঁকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলা হবে না।
ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
“এবং জেনে রেখো,তোমাদের মধ্যে
আল্লাহর রাসূল,
( ﷺ)
রয়েছেন” (৪৯:৭)।
ْ ﻭَﺳَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ,
“অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,( ﷺ)” [৯:৯৪]
ﻭَﻗُﻞِ ﺍﻋْﻤَﻠُﻮﺍْ ﻓَﺴَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﻭَﺳَﺘُﺮَﺩُّﻭﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺎﻟِﻢِ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ( 105
এবং “আপনি বলুন: আমল করে যাও; অতঃপর তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,
( ﷺ ) এবং মো’মেন
মুসলমানবৃন্দ” (৯:১০৫)
নোট: সুতরাং যিনি মৃত্যুুর পরেও উম্মতের আমলনামা প্রত্যক্ষ করবেন!
ইবনুল কায়্যিম:- লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন
(যাদুল মা’আদ খন্ড:- ২, পৃঃ ৪৯)
“সহীহ হাদিসের আলোকে“ হায়াতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম) ও অন্যান্য আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম)-বৃন্দ তাঁদের মাযার-রওজায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান।
★দলিল:-০১
হযরত আনাস বিন মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস, যিনি বলেন: “আমি আগমন করি”; আর হযরত হাদ্দিব(রাদ্বিয়াল্লাহু অানহু)-এর বর্ণনায় হাদীসের কথাগুলো ছিলো এ রকম–
“মে’রাজ রজনীতে ভ্রমণের সময় আমি লাল টিলার সন্নিকটে হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে অতিক্রমকালে তাঁকে তাঁর রওযা শরীফে নামায আদায়রত অবস্থায় দেখতে পাই।
[সহীহ মুসলিম,বই নং ৩০, হাদীস নং–৫৮৫৮]
★দলিল:-০২
হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলাম।আমি দেখলাম,আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমি কাউকে দেখলামনা।
আমরা বললাম,হে আল্লাহর রাসুল,
আপনি কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমরা তাঁকে দেখলামনা।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“উনি হচ্ছেন আমার ভাই ঈসা ইবনু মারইয়াম।আমি তাঁর
তাওয়াফ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম,অতঃপর(তাওয়াফ শেষ হলে) আমি তাঁকে সালাম দিলাম।
রেফারেন্সঃ
(তাফসীরে রুহুল মা’আনী-১১/২১৮)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম
কাস্তাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
“এ কথা প্রমাণিত যে,আম্বিয়ায়ে কেরাম হজ্জ করেন এবং তালবিয়াহ পাঠ করেন”।
রেফারেন্সঃ
(যারকানী ‘আলাল মাওয়াহিবঃ৭/৩৬৫, ১১/৩৬৭)
★দলিল:- ০৩
অতঃপর আমি মসজিদটির কিবলার দিকে এলাম।তারপর তিনি ওখানে বুরাকটি বাঁধলেন।তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসের মুসজিদে-আকসায় ঢুকলাম।অতঃপর আমার সামনে নবীদের জমায়েত করা হল।তারপর জিবরীল আমাকে এগিয়ে দিলেন। পরিশেষে আমি তাঁদের ইমামতি করলাম।
(তফসীর ইবনে কাসীর,৩য় খণ্ড,৭মপৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৪
বাইহাকীর বর্ণনায় আছে, পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী ফেরেশতার নাম ইসমাঈল।তার সামনে আছে সত্তর হাজার ফেরেশতা।তাঁর প্রত্যেক ফেরেশতার সাথে একলাখ ফেরেশতার বাহিনী আছে।
তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল আকাশটির দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।বলা হলো, কে? তিনি বললেন,জিবরীল।
আবার বলা হলো,আপনার সাথে কে? তিনি বললেন,মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বলা হয়, তাঁর কাছে লোক পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর আদম (আলাইহিস সালাম) কে সেই আকৃতিতে দেখা গেলো যে-আকৃতিতে আল্লাহ তাকে প্রথম দিনে সৃষ্টি করেছিলেন।
(তাফসীর ইবনে কাসীর ৩য় খন্ড,১৩পৃষ্ঠা)।
★দলিল:- ০৫
তারপর আমাদের ২য় আসমানে চড়ানো হলো।অতঃপর জিবরাঈল দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।তখন বলা হল,আপনি কে? তিনি বললেন জিবরীল।বলা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।বলা হলো, তার কাছে (দূত) পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, পাঠানো হয়েছে।
অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খোলা হলো।হঠাৎ আমি দুই খালাতো ভাইকে পেলাম।তারা হলেন,ঈসা ইবনে মারয়্যাম
এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়্যা।তারা দু’জন আমাকে স্বাগতম জানালেন এবং আমার ভালোর জন্য দুআ দিলেন।
(মুসলিম,১ম খন্ড,৯১ পৃষ্ঠা)।
★দলিল:- ০৬
তারপর একে একে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম),পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আলাইহিস সালাম), ষষ্ঠ আকাশে হযরত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।তারপর সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে—জিবরীল
(আলাইহিস সালাম) বললেন,ইনি আপনার বংশ পিতা,তাঁকে সালাম করুন।তাই আমি তাকে সালাম দিলাম।তিনিও সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন সত্য পুত্র ও সত্য নবীকে স্বাগতম।
তারপর আমাকে সিদ্রাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত তোলা হল।অত:পর হঠাৎ দেখলাম, ওর ফলগুলো বড় বড় কলসির মত এবং ওর পাতাগুলো হাতীর কানের মত।তিনি বললেন,এটা সিদ্রাতুল মুন্তাহা।ওখানে ৪টি নদী আছে।দুটি নদী ভেতরমুখী এবং দুটি নদী বাহিরমুখী।আমি বললাম,এ দুটি কি? হে জিবরায়ীল! তিনি বললেন,ভেতরমুখী দুটো জান্নাতের মধ্যকার নদী।আর বাহিরমুখী দু’টি (মিসরের) নীল এবং (ইরাকের) ফোরাত নদী। তারপর আমার জন্য বাইতুল মা’মূরকে তোলা হলো।তারপর আমার কাছে কতিপয় পাত্র আনা হল- মদের পাত্র ও দুধের পাত্র এবং মধুর পাত্র।আমি দুধটাকে গ্রহণ করলাম। জিবরীল বললেন,এটাই তো প্রকৃত স্বভাব যার উপরে আপনি আছেন এবং আপনার উম্মতও আছেন
(বুখারী ও মুসলিম,মিশকাত, ৫২৭পৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৭
আমি আসমানে বাইতুল মামুরে পিট ঠেকিয়ে সুন্দরতম পুরুষের বেশে আমাদের বংশ পিতা হযরত
ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দেখলাম।তার সঙ্গে কিছু লোকও
ছিলো।অতঃপর আমি তাঁকে সালাম দিলাম।তিনিও আমাকে সালাম দিলেন।অতঃপর আমি আমার উম্মতকে দু’টি দলে দেখলাম।
একটি ভাগ এমন যাদের দেহে সাদা কাপড় রয়েছে।তারা যেন
কাগজের মত।আর একটি ভাগ এমন যাদের দেহে ছাইরং কাপড়
রয়েছে।অত:পর আমি বাইতুল মামূরে প্রবেশ করলাম।
(বাইহাকীর দালা-য়িলুন নুবুওঅহ্, ২য় খন্ড- ১৩৯ পৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৮
সুনানে বাগজারে সহিহ সনদে বর্ণিত হাদিস আল্লাহর হাবিব হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এরশাদ করেন উনার সাহাবিদেরকে,আমার ওফাতের পর তোমরা বিলাপ করে কেঁদোনা। কেননা আমি রাসুল সবার মতো মারা যাবোনা।আমি রাসুল রওজা শরীফ হতে তোমাদের আমল দেখতে পাবো।যখন দেখবো তোমরা ভালো কাজ করছো তখন আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো আর যখন দেখবো তোমরা খারাপ কাজ করছো তখন আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন নবীরা কবরে জীবিত।আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার,হাদীস নং- ৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা,হাদীস নং-৩৪২৫,
সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,হাদীস}
মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে সশরীরে জীবিত আছেন।তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ……..করলে সেই ব্যক্তির পক্ষ
থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট পৌঁছানো হয়
এবং তিনি তা গ্রহণ করেন।এছাড়া কেউ রওজা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠ করলে তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরাসরি গ্রহণ করেন। হায়াতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আকিদা ইসলামের দলিল দিয়ে প্রমাণিত। [তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম,২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/সুনানু বাইহাকি, হাদিস:১৫৮৩/সুনানু দারিমি, হাদিস: ২৭ নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার
দলীল।
★দলিল:- ০৯
হযরত আবূ হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত; মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান: “আমি নিজেকে ’হিজর’-এর মধ্যে পেলাম এবং কোরাইশ গোত্র আমাকে মে’রাজের রাতের ভ্রমণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল। আমাকে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়, যা আমার স্মৃতিতে রক্ষিত ছিল না।এতে আমি পেরেশানগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; এমন পর্যায়ের পেরেশানির মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনো-ই হইনি।অতঃপর আল্লাহ পাক এটিকে (বায়তুল মাকদিসকে) আমার চোখের
সামনে মেলে ধরেন। আমি তখন এর
দিকে তাকিয়ে তারা (কুরাইশবর্গ) যা যা প্রশ্ন করছিলো সবগুলোরই উত্তর দেই।আমি ওই সময় আম্বিয়া
(আলাইহিস সালাম)-বৃন্দের জমায়েতে নিজেকে দেখতে পাই। আমি হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে নামায পড়তে দেখি।তিনি দেখতে সুদর্শন
(সুঠাম দেহের অধিকারী) ছিলেন,যেন শানু’য়া গোত্রের কোনো পুরুষ।
আমি মরিয়ম তনয় ঈসা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখি নামায আদায় করতে; সকল মানবের মাঝে তাঁর (চেহারার)সবচেয়ে বেশি সাযুজ্য হলো উরওয়া ইবনে
মাস’উদ আস সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে। আমি হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)কেও
সালাত আদায় করতে দেখি; মানুষের মাঝে তাঁর (চেহারার)
সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হলো তোমাদের সাথী (মহানবী স্বয়ং)-এর সাথে।নামাযের সময় হলে পরে আমি তাতে ইমামতি করি।নামায শেষে কেউ একজন
বল্লেন, ‘এই হলেন মালেক (ফেরেশতা),জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণকারী; তাঁকে সালাম জানান।’আমি তাঁর দিকে ফিরতেই তিনি আমার আগে (আমাকে) সালাম জানান।”
[সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, হাদীস নং- ৩২৮; ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহ:)-ও এটিকে নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায় সমর্থন দিয়েছেন].
★দলিল:- ১০
ইবরাহীম ইবনে শায়বান বলেন: আমি কোনো এক বছর হজ্জ্বে গেলে মদীনা মোনাওয়ারায় মহানবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রওযা শরীফেও যেয়ারত উদ্দেশ্যে যাই।তাঁকে সালাম জানানোর পরে ’হুজরাহ আস্সাআদা’র ভেতর থেকে জবাব শুনতে পাই: ‘ওয়া আলাইকুম আস-সালাম’।
এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মোহাম্মদ ইবনে হিব্বান (রহ:)-এর সূত্রে আবূ নু’য়াইম তাঁর কৃত ‘আত্তারগিব’ (পৃষ্টা-১০২) পুস্তকে; ইবনে আন্নাজ্জার নিজ ‘আখবার আল-মদীনা’ গ্রন্থে(১৪৬ পৃষ্ঠা)।ইবনে জাওযী স্বরচিত ‘মুতির আল-গারাম’ বইয়ে (৪৮৬-৪৯৮ পৃষ্ঠা) এটি উদ্ধৃত করেন; আল-ফায়রোযাবাদী এ রেওয়ায়েত তার ‘আল-সিলাত ওয়াল্বুশর’ পুস্তকে (৫৪ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে তাইমিয়া নিজ ‘এয়াতেদা’ আল-সীরাত আল-মুস্তাকীম’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৭৩-৩৭৪) এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে।
★দলিল:- ১১
হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন:
“যে ঘরে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আমার পিতা (আবূ বকর–রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে দাফন করা হয়,সেখানে যখন-ই আমি প্রবেশ করেছি,তখন আমার মাথা থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলেছি এই ভেবে যে আমি যাঁদের জেয়ারতে এসেছি তাঁদের একজন আমার পিতা ও অপরজন আমার স্বামী।কিন্তু আল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমর ফারূক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ওই ঘরে দাফন হলেন,তখন থেকে আমি আর কখনোই ওখানে পর্দা না করে প্রবেশ করিনি; আমি হযরত উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি লজ্জার কারণেই এ রকম করতাম।” [মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল,৬ষ্ঠ
খণ্ড,২০২পৃষ্ঠা,হাদীস- ২৫৭০১]
★দলিল:- ১২
হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব।ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন।হাফেজ ইবনে হাজার (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন।
এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) লিখেন যে- আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে,হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিযিক
দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না।আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক।
(আলকওলুল বদী’- ১২৫)
★দলিল:- ১৩
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সংগী সাথীরা যখন ফিরে আসতে থাকে,সাথীরা জুতার আওয়াজ শোনা যায় এমন দূরত্বে চলে আসে এমন সময় দুজন ফেরেশতা তার কবরে আগমন করে।উক্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে হযরত মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারনা কি।যদি লোকটি ঈমানদার হয় তখন সে বলবে,আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।এ কথা বলার পর ফেরেশতাদ্বয় তখন তাকে বলে,হে বান্দা তুমি তোমার দোযখের ঠিকানাটা দেখে নাও।
তোমার এ সাক্ষীর কারণে মহান আল্লাহ পাক তোমার দোযখের ঠিকানাটাকে বেহেশতের ঠিকানায় পরিণত করে দিয়েছেন।তখন সে ব্যক্তি উভয় ঠিকানাই দেখেতে পাবে।তার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে।আর মৃত্যু ব্যক্তি যদি মুনাফিক অথবা কাফের হয়।তখন তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখিয়ে বলা হবে এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি। উত্তরে তখন সে বলবে,আমিতো তার সম্পর্কে কিছুই জানি না লোকেরা তার সম্পর্কে যা সব বলতো আমিও তাই বলতাম।তখন উক্তি ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলবে তুমি তাকে জানতেও চাও নাই অথবা পড়েও দেখ নাই।অতঃপর লোহার হাতুড়ী দ্বারা তাকে এমন ভাবে প্রহার করা হবে যে,প্রহারের আঘাতে সে এমন ভাবে চিৎকার করতে থাকবে।জ্বিন ও মানুষ ছাড়া এই চিতকার সবাই শুনতে পারে।
[সহিহ বোখারী,হাদিস নং-১২৫৭ ই.ফা]
★দলিল:- ১৪
হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত –
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন:- যে
ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখলো,সেই আমাকে অচিরেই জাগ্রত অবস্থাতে দেখতে পাবে,শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারেন না। [সহীহ বোখারী শরীফ -হাদিস নং- ৬৫৯২]
★দলিল:- ১৫
হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন-
নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী
ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,
হাদীস নং-২২}
তবে সেটা বারযাখী জীবন,যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে ঐ সালাত দুনিয়াবী সালাতের সাথে তুলনীয়
নয়।
★দলিল:- ১৬
হযরত আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়।নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষী থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়।আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে?
উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!,কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭,
১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,আল
মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস
নং-১৫৭২,মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
★দলিল:- ১৭
আবূ ইয়ালার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ‘হায়াত আল-আম্বিয়া’ পুস্তকে হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)
থেকে বর্ণিত আছে যে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান:
’আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁদের মাযার-রওযায় জীবিত আছেন
এবং তাঁরা (সেখানে) সালাত আদায় করেন’।”
[ইমাম সূয়ুতী কৃত ‘আল-হাওয়ী লিল্ফাতাউইয়ী’,২য় খণ্ড,২৬৪ পৃষ্ঠা]
ইমাম হায়তামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ওপরে বর্ণিত সর্বশেষ হাদীস সম্পর্কে বলেন, “আবূ ইয়ালা ও বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবূ ইয়ালার এসনাদে সকল বর্ণনাকারী-ই আস্থাভাজন।”
ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও এই রেওয়ায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায়। [কাদিমী কুতুবখানা সংস্করণের ৬০২-৬০৩ পৃষ্ঠায়]
উপরে উল্লেখিত কোরঅানের আয়াত ও সহিহ হাদিসের দলিল এবং মেরাজের ঘটনা মাধ্যমে প্রমানিত হয় নবী-রাসূল আলাইহিস সালামগণ তাদের নিজ নিজ রওজাতে জিন্দা অবস্থায় রয়েছেন।
সুতরাং কোরআন এবং সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে নবীগণ জীবিত, অস্বীকারকারীরা মুসলমানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ফেসবুকে অনেক ভাই-বোনদের ভ্রান্ত আক্বিদা দেখে অভাক হই,তাই চেষ্টা করি কোরআন-হাদিসের আলোকে সমাধান দিতে।এক ভাই তার স্ট্যাটাসের মধ্যে কিছু কোরআনের আয়াত দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হায়াতুন্নবী নবী,জিন্দা নবী অস্বীকার করেছে, মৃত নবী বলে নবীপাকের শানে বিয়াদবী করেছে।এ জন্যই এই পোস্টটি করার মূল উদ্দেশ্য।পোস্টটি একটু লম্বা হয়ে গেছে,দয়া করে একটু কষ্ট করে পুরো পোস্টটি পড়বেন।
“প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।”
(সুরা আলে ইমরান,আয়াত ১৮৫)
নবী – রাসুলগণ (আলাইহিস সালাম) এর মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই।
আবার আল্লাহ তায়ালা বলেন:–
ﻭَﻻَ ﺗَﻘُﻮﻟُﻮﺍْ ﻟِﻤَﻦْ ﻳُﻘْﺘَﻞُ ﻓِﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻣْﻮَﺍﺕٌ ﺑَﻞْ ﺃَﺣْﻴَﺎﺀ
ﻭَﻟَﻜِﻦ ﻻَّ ﺗَﺸْﻌُﺮُﻭﻥَ ( ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ 154 – )
আল্লাহর পথে যারা শহীদ হয় তাদের তোমরা মৃত বল না।বরং তারা জীবিত।তবে তা তোমরা উপলব্ধি করতে পারো না।
{সূরা বাকারা-১৫৪}
উক্ত আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে,শহীদগণ কবরে জীবিত।
নোট: দেখুন শহীদগণ মৃত্যুর পরেও তারা জীবিত,সুতরাং এইখানে মৃত্যু হচ্ছে ইহকাল থেকে পরকালে যাবার
একটি সেতু ,শহীদগনের অনেক উর্দ্ধে নবীদের স্থান!
আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ব্যাপারে আসছে:
ﻛَﻴْﻒَ ﺇِﺫَﺍ ﺟِﺌْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺃﻣَّﺔٍ ﺑِﺸَﻬِﻴﺪٍ ﻭَﺟِﺌْﻨَﺎ ﺑِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻫَـﺆُﻻﺀ
ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ
“তবে কেমন হবে যখন আমি (আল্লাহ) প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, এবং হে মাহবুব! আপনাকে তাদের সবার ব্যাপারে সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারীস্বরূপ উপস্থিত করবো?” (৪:৪১)
মহানবী,( ﷺ ) যা জানেন না বা দেখেননি সে সম্পর্কে তো তাঁকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে বলা হবে না।
ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻥَّ ﻓِﻴﻜُﻢْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ
“এবং জেনে রেখো,তোমাদের মধ্যে
আল্লাহর রাসূল,
( ﷺ)
রয়েছেন” (৪৯:৭)।
ْ ﻭَﺳَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ,
“অতঃপর তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,( ﷺ)” [৯:৯৪]
ﻭَﻗُﻞِ ﺍﻋْﻤَﻠُﻮﺍْ ﻓَﺴَﻴَﺮَﻯ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻋَﻤَﻠَﻜُﻢْ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟُﻪُ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ
ﻭَﺳَﺘُﺮَﺩُّﻭﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﻋَﺎﻟِﻢِ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓِ ﻓَﻴُﻨَﺒِّﺌُﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎ
ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ( 105
এবং “আপনি বলুন: আমল করে যাও; অতঃপর তোমাদের আমল প্রত্যক্ষ করবেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল,
( ﷺ ) এবং মো’মেন
মুসলমানবৃন্দ” (৯:১০৫)
নোট: সুতরাং যিনি মৃত্যুুর পরেও উম্মতের আমলনামা প্রত্যক্ষ করবেন!
ইবনুল কায়্যিম:- লিখেন যে- “যদিও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহ মোবারক হযরত আম্বীয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুস সালাম-এর রূহের সাথে রফীকে আলায় এ রয়েছেন,কিন্তু এতদ্বসত্বেও তাঁর রূহ মোবারক তাঁর শরীর মোবারকের সাথে সম্পর্ক রয়েছে,যে কারণে তিনি সালাম দাতার উত্তর দিয়ে থাকেন
(যাদুল মা’আদ খন্ড:- ২, পৃঃ ৪৯)
“সহীহ হাদিসের আলোকে“ হায়াতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম) ও অন্যান্য আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম)-বৃন্দ তাঁদের মাযার-রওজায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান।
★দলিল:-০১
হযরত আনাস বিন মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস, যিনি বলেন: “আমি আগমন করি”; আর হযরত হাদ্দিব(রাদ্বিয়াল্লাহু অানহু)-এর বর্ণনায় হাদীসের কথাগুলো ছিলো এ রকম–
“মে’রাজ রজনীতে ভ্রমণের সময় আমি লাল টিলার সন্নিকটে হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে অতিক্রমকালে তাঁকে তাঁর রওযা শরীফে নামায আদায়রত অবস্থায় দেখতে পাই।
[সহীহ মুসলিম,বই নং ৩০, হাদীস নং–৫৮৫৮]
★দলিল:-০২
হযরত আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছিলাম।আমি দেখলাম,আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমি কাউকে দেখলামনা।
আমরা বললাম,হে আল্লাহর রাসুল,
আপনি কারো সাথে মুসাফাহা করলেন,অথচ আমরা তাঁকে দেখলামনা।
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“উনি হচ্ছেন আমার ভাই ঈসা ইবনু মারইয়াম।আমি তাঁর
তাওয়াফ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম,অতঃপর(তাওয়াফ শেষ হলে) আমি তাঁকে সালাম দিলাম।
রেফারেন্সঃ
(তাফসীরে রুহুল মা’আনী-১১/২১৮)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার ইমাম
কাস্তাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
“এ কথা প্রমাণিত যে,আম্বিয়ায়ে কেরাম হজ্জ করেন এবং তালবিয়াহ পাঠ করেন”।
রেফারেন্সঃ
(যারকানী ‘আলাল মাওয়াহিবঃ৭/৩৬৫, ১১/৩৬৭)
★দলিল:- ০৩
অতঃপর আমি মসজিদটির কিবলার দিকে এলাম।তারপর তিনি ওখানে বুরাকটি বাঁধলেন।তারপর আমি বাইতুল মুকাদ্দাসের মুসজিদে-আকসায় ঢুকলাম।অতঃপর আমার সামনে নবীদের জমায়েত করা হল।তারপর জিবরীল আমাকে এগিয়ে দিলেন। পরিশেষে আমি তাঁদের ইমামতি করলাম।
(তফসীর ইবনে কাসীর,৩য় খণ্ড,৭মপৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৪
বাইহাকীর বর্ণনায় আছে, পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী ফেরেশতার নাম ইসমাঈল।তার সামনে আছে সত্তর হাজার ফেরেশতা।তাঁর প্রত্যেক ফেরেশতার সাথে একলাখ ফেরেশতার বাহিনী আছে।
তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল আকাশটির দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।বলা হলো, কে? তিনি বললেন,জিবরীল।
আবার বলা হলো,আপনার সাথে কে? তিনি বললেন,মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
বলা হয়, তাঁর কাছে লোক পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর আদম (আলাইহিস সালাম) কে সেই আকৃতিতে দেখা গেলো যে-আকৃতিতে আল্লাহ তাকে প্রথম দিনে সৃষ্টি করেছিলেন।
(তাফসীর ইবনে কাসীর ৩য় খন্ড,১৩পৃষ্ঠা)।
★দলিল:- ০৫
তারপর আমাদের ২য় আসমানে চড়ানো হলো।অতঃপর জিবরাঈল দরজা খোলার প্রার্থনা করলেন।তখন বলা হল,আপনি কে? তিনি বললেন জিবরীল।বলা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।বলা হলো, তার কাছে (দূত) পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, পাঠানো হয়েছে।
অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খোলা হলো।হঠাৎ আমি দুই খালাতো ভাইকে পেলাম।তারা হলেন,ঈসা ইবনে মারয়্যাম
এবং ইয়াহ্ইয়া ইবনে যাকারিয়্যা।তারা দু’জন আমাকে স্বাগতম জানালেন এবং আমার ভালোর জন্য দুআ দিলেন।
(মুসলিম,১ম খন্ড,৯১ পৃষ্ঠা)।
★দলিল:- ০৬
তারপর একে একে চতুর্থ আকাশে হযরত ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম),পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন (আলাইহিস সালাম), ষষ্ঠ আকাশে হযরত মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন।তারপর সপ্তম আসমানে হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ হলে—জিবরীল
(আলাইহিস সালাম) বললেন,ইনি আপনার বংশ পিতা,তাঁকে সালাম করুন।তাই আমি তাকে সালাম দিলাম।তিনিও সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন সত্য পুত্র ও সত্য নবীকে স্বাগতম।
তারপর আমাকে সিদ্রাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত তোলা হল।অত:পর হঠাৎ দেখলাম, ওর ফলগুলো বড় বড় কলসির মত এবং ওর পাতাগুলো হাতীর কানের মত।তিনি বললেন,এটা সিদ্রাতুল মুন্তাহা।ওখানে ৪টি নদী আছে।দুটি নদী ভেতরমুখী এবং দুটি নদী বাহিরমুখী।আমি বললাম,এ দুটি কি? হে জিবরায়ীল! তিনি বললেন,ভেতরমুখী দুটো জান্নাতের মধ্যকার নদী।আর বাহিরমুখী দু’টি (মিসরের) নীল এবং (ইরাকের) ফোরাত নদী। তারপর আমার জন্য বাইতুল মা’মূরকে তোলা হলো।তারপর আমার কাছে কতিপয় পাত্র আনা হল- মদের পাত্র ও দুধের পাত্র এবং মধুর পাত্র।আমি দুধটাকে গ্রহণ করলাম। জিবরীল বললেন,এটাই তো প্রকৃত স্বভাব যার উপরে আপনি আছেন এবং আপনার উম্মতও আছেন
(বুখারী ও মুসলিম,মিশকাত, ৫২৭পৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৭
আমি আসমানে বাইতুল মামুরে পিট ঠেকিয়ে সুন্দরতম পুরুষের বেশে আমাদের বংশ পিতা হযরত
ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দেখলাম।তার সঙ্গে কিছু লোকও
ছিলো।অতঃপর আমি তাঁকে সালাম দিলাম।তিনিও আমাকে সালাম দিলেন।অতঃপর আমি আমার উম্মতকে দু’টি দলে দেখলাম।
একটি ভাগ এমন যাদের দেহে সাদা কাপড় রয়েছে।তারা যেন
কাগজের মত।আর একটি ভাগ এমন যাদের দেহে ছাইরং কাপড়
রয়েছে।অত:পর আমি বাইতুল মামূরে প্রবেশ করলাম।
(বাইহাকীর দালা-য়িলুন নুবুওঅহ্, ২য় খন্ড- ১৩৯ পৃষ্ঠা)
★দলিল:- ০৮
সুনানে বাগজারে সহিহ সনদে বর্ণিত হাদিস আল্লাহর হাবিব হুজুরপাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এরশাদ করেন উনার সাহাবিদেরকে,আমার ওফাতের পর তোমরা বিলাপ করে কেঁদোনা। কেননা আমি রাসুল সবার মতো মারা যাবোনা।আমি রাসুল রওজা শরীফ হতে তোমাদের আমল দেখতে পাবো।যখন দেখবো তোমরা ভালো কাজ করছো তখন আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো আর যখন দেখবো তোমরা খারাপ কাজ করছো তখন আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবো হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন নবীরা কবরে জীবিত।আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার,হাদীস নং- ৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা,হাদীস নং-৩৪২৫,
সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,হাদীস}
মুসলমানদের আকিদা হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলমে বরযখে নিজ কবর মুবারকে সশরীরে জীবিত আছেন।তাইতো কোনো মুসলমান দূর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ……..করলে সেই ব্যক্তির পক্ষ
থেকে তা ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট পৌঁছানো হয়
এবং তিনি তা গ্রহণ করেন।এছাড়া কেউ রওজা মুবারকের নিকট এসে সালাত ও সালাম পাঠ করলে তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরাসরি গ্রহণ করেন। হায়াতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর আকিদা ইসলামের দলিল দিয়ে প্রমাণিত। [তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম,২য় খন্ড, পৃষ্ঠা-১৭৮/সুনানু বাইহাকি, হাদিস:১৫৮৩/সুনানু দারিমি, হাদিস: ২৭ নবীগণ কবরে জীবিত হওয়ার
দলীল।
★দলিল:- ০৯
হযরত আবূ হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত; মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান: “আমি নিজেকে ’হিজর’-এর মধ্যে পেলাম এবং কোরাইশ গোত্র আমাকে মে’রাজের রাতের ভ্রমণ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিল। আমাকে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়, যা আমার স্মৃতিতে রক্ষিত ছিল না।এতে আমি পেরেশানগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম; এমন পর্যায়ের পেরেশানির মুখোমুখি ইতিপূর্বে কখনো-ই হইনি।অতঃপর আল্লাহ পাক এটিকে (বায়তুল মাকদিসকে) আমার চোখের
সামনে মেলে ধরেন। আমি তখন এর
দিকে তাকিয়ে তারা (কুরাইশবর্গ) যা যা প্রশ্ন করছিলো সবগুলোরই উত্তর দেই।আমি ওই সময় আম্বিয়া
(আলাইহিস সালাম)-বৃন্দের জমায়েতে নিজেকে দেখতে পাই। আমি হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে নামায পড়তে দেখি।তিনি দেখতে সুদর্শন
(সুঠাম দেহের অধিকারী) ছিলেন,যেন শানু’য়া গোত্রের কোনো পুরুষ।
আমি মরিয়ম তনয় ঈসা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখি নামায আদায় করতে; সকল মানবের মাঝে তাঁর (চেহারার)সবচেয়ে বেশি সাযুজ্য হলো উরওয়া ইবনে
মাস’উদ আস সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে। আমি হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)কেও
সালাত আদায় করতে দেখি; মানুষের মাঝে তাঁর (চেহারার)
সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য হলো তোমাদের সাথী (মহানবী স্বয়ং)-এর সাথে।নামাযের সময় হলে পরে আমি তাতে ইমামতি করি।নামায শেষে কেউ একজন
বল্লেন, ‘এই হলেন মালেক (ফেরেশতা),জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণকারী; তাঁকে সালাম জানান।’আমি তাঁর দিকে ফিরতেই তিনি আমার আগে (আমাকে) সালাম জানান।”
[সহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড, হাদীস নং- ৩২৮; ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহ:)-ও এটিকে নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায় সমর্থন দিয়েছেন].
★দলিল:- ১০
ইবরাহীম ইবনে শায়বান বলেন: আমি কোনো এক বছর হজ্জ্বে গেলে মদীনা মোনাওয়ারায় মহানবী
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রওযা শরীফেও যেয়ারত উদ্দেশ্যে যাই।তাঁকে সালাম জানানোর পরে ’হুজরাহ আস্সাআদা’র ভেতর থেকে জবাব শুনতে পাই: ‘ওয়া আলাইকুম আস-সালাম’।
এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মোহাম্মদ ইবনে হিব্বান (রহ:)-এর সূত্রে আবূ নু’য়াইম তাঁর কৃত ‘আত্তারগিব’ (পৃষ্টা-১০২) পুস্তকে; ইবনে আন্নাজ্জার নিজ ‘আখবার আল-মদীনা’ গ্রন্থে(১৪৬ পৃষ্ঠা)।ইবনে জাওযী স্বরচিত ‘মুতির আল-গারাম’ বইয়ে (৪৮৬-৪৯৮ পৃষ্ঠা) এটি উদ্ধৃত করেন; আল-ফায়রোযাবাদী এ রেওয়ায়েত তার ‘আল-সিলাত ওয়াল্বুশর’ পুস্তকে (৫৪ পৃষ্ঠা) এবং ইবনে তাইমিয়া নিজ ‘এয়াতেদা’ আল-সীরাত আল-মুস্তাকীম’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৭৩-৩৭৪) এই বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে।
★দলিল:- ১১
হযরত সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন:
“যে ঘরে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আমার পিতা (আবূ বকর–রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে দাফন করা হয়,সেখানে যখন-ই আমি প্রবেশ করেছি,তখন আমার মাথা থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলেছি এই ভেবে যে আমি যাঁদের জেয়ারতে এসেছি তাঁদের একজন আমার পিতা ও অপরজন আমার স্বামী।কিন্তু আল্লাহর নামে শপথ! যখন হযরত উমর ফারূক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ওই ঘরে দাফন হলেন,তখন থেকে আমি আর কখনোই ওখানে পর্দা না করে প্রবেশ করিনি; আমি হযরত উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি লজ্জার কারণেই এ রকম করতাম।” [মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল,৬ষ্ঠ
খণ্ড,২০২পৃষ্ঠা,হাদীস- ২৫৭০১]
★দলিল:- ১২
হযরত আম্বিয়া কেরাম আলাইহিমুস সালাম এর কবরের জীবন হুবহু জিবীত থাকা সত্য ও হক্ব।ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয় বস্তুর উপর একটি সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন।হাফেজ ইবনে হাজার (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ফতহুল বারী ৬:৩৫২ এবং হাফেজ সাখাবী আলাকওলুল বদী’-১১৬-এ উক্ত হাদিস্কে বিশুদ্ধ সনদ বিশিষ্ট বলেছেন।
এছাড়া আল্লামা সাখাবী(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) লিখেন যে- আমরা ঈমান রাখি সত্ত্যায়ন করি যে,হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিযিক
দেয়া হয় এবং তাঁর শরীর মোবারক কে মাটি খায়না অর্থাৎ নষ্ট করে না।আর এর উপর উম্মতের ইজমা এবং ইত্তেফাক।
(আলকওলুল বদী’- ১২৫)
★দলিল:- ১৩
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সংগী সাথীরা যখন ফিরে আসতে থাকে,সাথীরা জুতার আওয়াজ শোনা যায় এমন দূরত্বে চলে আসে এমন সময় দুজন ফেরেশতা তার কবরে আগমন করে।উক্ত ব্যক্তিকে বসিয়ে হযরত মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারনা কি।যদি লোকটি ঈমানদার হয় তখন সে বলবে,আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।এ কথা বলার পর ফেরেশতাদ্বয় তখন তাকে বলে,হে বান্দা তুমি তোমার দোযখের ঠিকানাটা দেখে নাও।
তোমার এ সাক্ষীর কারণে মহান আল্লাহ পাক তোমার দোযখের ঠিকানাটাকে বেহেশতের ঠিকানায় পরিণত করে দিয়েছেন।তখন সে ব্যক্তি উভয় ঠিকানাই দেখেতে পাবে।তার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে।আর মৃত্যু ব্যক্তি যদি মুনাফিক অথবা কাফের হয়।তখন তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখিয়ে বলা হবে এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার অভিমত কি। উত্তরে তখন সে বলবে,আমিতো তার সম্পর্কে কিছুই জানি না লোকেরা তার সম্পর্কে যা সব বলতো আমিও তাই বলতাম।তখন উক্তি ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলবে তুমি তাকে জানতেও চাও নাই অথবা পড়েও দেখ নাই।অতঃপর লোহার হাতুড়ী দ্বারা তাকে এমন ভাবে প্রহার করা হবে যে,প্রহারের আঘাতে সে এমন ভাবে চিৎকার করতে থাকবে।জ্বিন ও মানুষ ছাড়া এই চিতকার সবাই শুনতে পারে।
[সহিহ বোখারী,হাদিস নং-১২৫৭ ই.ফা]
★দলিল:- ১৪
হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত –
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন:- যে
ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখলো,সেই আমাকে অচিরেই জাগ্রত অবস্থাতে দেখতে পাবে,শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারেন না। [সহীহ বোখারী শরীফ -হাদিস নং- ৬৫৯২]
★দলিল:- ১৫
হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন-
নবীরা কবরে জীবিত। আর তারা সেখানে নামায পড়েন।
{মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী
ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ,
হাদীস নং-২২}
তবে সেটা বারযাখী জীবন,যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে ঐ সালাত দুনিয়াবী সালাতের সাথে তুলনীয়
নয়।
★দলিল:- ১৬
হযরত আবু দারদা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দুরুদ পড়।নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষী থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়।আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-মৃত্যুর পরেও কি তা পেশ করা হবে?
উত্তরে তিনি বললেন-হ্যাঁ!,কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীগণদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।
{ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭,
১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯,আল
মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস
নং-১৫৭২,মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫৭৫৯}
★দলিল:- ১৭
আবূ ইয়ালার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ‘হায়াত আল-আম্বিয়া’ পুস্তকে হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)
থেকে বর্ণিত আছে যে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এরশাদ ফরমান:
’আম্বিয়া (আলাইহিস সালাম) তাঁদের মাযার-রওযায় জীবিত আছেন
এবং তাঁরা (সেখানে) সালাত আদায় করেন’।”
[ইমাম সূয়ুতী কৃত ‘আল-হাওয়ী লিল্ফাতাউইয়ী’,২য় খণ্ড,২৬৪ পৃষ্ঠা]
ইমাম হায়তামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ওপরে বর্ণিত সর্বশেষ হাদীস সম্পর্কে বলেন, “আবূ ইয়ালা ও বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবূ ইয়ালার এসনাদে সকল বর্ণনাকারী-ই আস্থাভাজন।”
ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-ও এই রেওয়ায়াতকে সমর্থন দিয়েছেন নিজ ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৪৮৩ পৃষ্ঠায়। [কাদিমী কুতুবখানা সংস্করণের ৬০২-৬০৩ পৃষ্ঠায়]
উপরে উল্লেখিত কোরঅানের আয়াত ও সহিহ হাদিসের দলিল এবং মেরাজের ঘটনা মাধ্যমে প্রমানিত হয় নবী-রাসূল আলাইহিস সালামগণ তাদের নিজ নিজ রওজাতে জিন্দা অবস্থায় রয়েছেন।
সুতরাং কোরআন এবং সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে নবীগণ জীবিত, অস্বীকারকারীরা মুসলমানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
দুই দিনের দুনিয়ার লোভে পড়ে আমরা কত কিছুই না করি,, সুন্দর একটা কাহিনী পড়ে দেখুন ভালো লাগবে
এক অপূর্র সুন্দরী নারী এক কৃষক কে বলল আমি তোমাকে বিবাহ করিব কৃষক তো নারীর চেহারা দেখে পাগল,কৃষক দেরী না করে নারী কে নিয়ে কাজী অফিসে গিয়ে বলল তাড়াতাড়ি আমাদের কে বিবাহ দাও, কাজী নারীর চেহারা দেখে সে নিজে ও পাগল হয়ে পাগল, আরে বেটা কৃষক তুই তো এই নারীর উপযুক্তই নাহ,আমি বিবাহ্ করিব কৃষক আর কাজীর মধ্যে ঝগড়া লেগে গেল,,এক পর্যায় কৃষক আর কাজীর বিচার নিয়ে গেলো বাদশাহের দরবারে,, বাদশাহ্ নারীর চেহারা দেখে সে নিজে ও পাগল,,, বাদশাহ্ বলেন তোরা দুজনেই এই নারীর অযোগ্য বিবাহ আমি করিব তখন নারী
কে বলা হলো তুমি সিদ্বান্ত নেয়,তুমি কাকে বিবাহ করিবে,?নারী সিদ্বান্ত দিলো,,, যে আমাকে দৌড়ে ধরতে পারবে,,আমি তাকেই বিবাহ করিব।নারী দৌড় দিলো দৌড়াতে, দৌড়াতে এক সময় ছটফট করতে করতে কৃষক মারা গেলো,,তার কিছু দুরপর একেই অবস্থায় কাজী টাও মারা গেলো,,,বাদশাহ্ নারীকে বলেন এখন তো আমি একা চলো বিবাহ করিব,,তবুও নারী বলে না।আমাকে দৌড়ে ধরতে হবে,,তখন বাদশাহ্ বলেন হে নারী দাঁড়া ও বল তুমি আসলে কে?,,নারী বলে আমি হলাম দুনিয়া আমার মধ্যে আছে শুধু চাকচিক্য মোহ্ আর লোভলালসা।আমার পিছে যে দৌড়াবে সে শুধু এই ভাবেই মরবে বিনিময়ে কিছুই পাবেনা তাই দুনিয়ার মোহ্ পরিত্যাগ করে আখিরাতে তৈয়ারী করি,,,,,,,আমিন আমিন ছুম্মা আমিন,,
Tuesday, 27 February 2018
মদিনা শরীফের ফজিলত
মদীনা শরীফের ফজিলত
পবিত্র মদিনার শ্রেষ্ঠ ফযিলত হল - আঠার হাজার মাখলুকাতে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব
সৈয়্যদানা হযরত মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামা-এর পবিত্র রওজা শরিফ এ নগরীতেই অবস্থিত। এর এমন এক ফযিলত যার সাথে অপর কোন ফযিলতের তুলনা হয় না। বরং দুনিয়া ও আখিরাতের কোন নিয়ামতই এ নিয়ামতের সমতুল্য হতে পারে না।
তাছাড়া বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব সৈয়্যদানা নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র মদিনা শরীফে। শুধু তাই নয় তাঁর মহান তিন খলিফা, আহলে বায়েত, উম্মু হাতুল মোমেনিন, মহান দশ হাজারের মত সাহাবা-ই কেরামের সমাধিও এ পবিত্র মদিনা শরীফে অবস্থিত।”
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আল্লাহ, আমার অন্তরে মদিনার ভালবাসা দান কর, যেমন আমরা মক্কাকে ভালবাসি এবং তার চাইতেও বেশি।”
পবিত্র মদিনা মানুষের ময়লাকে এমনভাবে দূরিভূত করে যেভাবে কামারের ভাতি লোহার মরিচাকে দূরিভূত করে। অন্য হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে- মদিনা শরিফ পূত-পবিত্র। গোনাহসমূহকে এটা এমনভাবে বিদুরিত করে যেমনিভাবে কামারের ভাতি রূপার মরিচাকে দূরিভূত করে অর্থাৎÑফিৎনা, ফ্যাসাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের এখান থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এটি মদিনা শরিফের একটি বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ ইমাম-একমত যে, মদিনা শরিফের এ বৈশিষ্ট্য সর্বদা বিদ্যমান।
এক বর্ণনায় বর্ণিত আছে যে, এক বেদুঈন আল্লাহ-রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র হাতে এ কথার উপর বাইয়াত গ্রহণ করল যে, সে মদিনাতেই অবস্থান করবে। দ্বিতীয় দিবসে ঘটনা চক্রে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং জ্বরাক্রান্ত হয়। অতঃপর সে নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নিকট এসে বাইয়াত ভঙ্গের এবং স্বদেশে চলে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে উল্লেখিত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মদিনা শরিফ থেকে আসার সময় বন্ধু-বান্ধবদের সম্বোধন করে বললেনÑমদিনা শরিফ যাদেরকে দূরে নিক্ষেপ করেছে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশংকা করছি।
এ পবিত্র নগরির পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্য ঐ দিনই পূর্ণভাবে প্রকাশ পাবে, যখন মলউন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং মদিনা শরিফে প্রবেশে সক্ষম হবে না আর সব সন্ত্রাসকারী দাজ্জালের অনুসরণে মদিনা শরিফ থেকে বাইরে চলে আসবে। সে দিন মদিনা শরিফ দুষ্ট লোক থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে। যেমন হাদিস শরিফে বর্ণিত আছেÑসে সময় ইসলাম বিরোধী এবং মুশরিকদের অপবিত্রতা থেকে মদিনা শরিফের পবিত্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। মদিনা শরিফের ফযিলতসমূহের মধ্যে এটা আরেকটি ফযিলত যে, মহান আল্লাহ পাক মদিনা শরিফের মাটি ও ফলের মধ্যে শেফা ও আঙ্গুরের গুণ রেখেছেন। অনেক হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে মদিনা শরিফের ধূলাবলিতে প্রত্যেক রোগের শেফা রয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় দেখা যায়, মদিনা শরিফের মাটিতে রোগের ঔষধ রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াদিয়ে বতন নামক স্থানে। বর্ণিত আছে যে, নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সাহাবিকে ঔষধ স্বরূপ এ মাটি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঔষধ হিসেবে এ মাটি নিয়ে যাওয়া সম্পর্কে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। অনেক ইমাম এ মাটি সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। যেমন হযরত শেখ-ই মুজাদ্দেদিন ফিরোজ আবাদী বলেনÑএ মাটি সম্পর্কে আমি নিজেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমার একজন গোলাম পূর্ণ এক বছর যাবৎ জ্বরাক্রান্ত ছিল, আমি নিজেই ঐ মাটি পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করানোর ফলে সে ঐ দিনই আরোগ্য লাভ করে। হযরত শেখ আবদুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী রহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেনÑআমি নিজেই এ মাটির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এক সময় তিনি মদিনা শরিফে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁর পা ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকগণ এটা দুরারোগ্য ব্যাধি বলে অভিমত দেন এবং তারা অক্ষমতা প্রকাশ করেন। তিনি ঐ পবিত্র মাটির ব্যবহার আরম্ভ করে দেন। এতে অল্প দিনের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তাকে অতি সহজে আরোগ্য দান করলেন।
যখন নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফেরার সময় মদিনা শরিফের কাছাকাছি পৌঁছে যেতেন, তখন তাড়াতাড়ি পবিত্র মদিনায় পৌঁছে যাওয়ার উৎসাহে সওয়ারিকে জোরে চালিয়ে দিতেন এবং চাদর মোবারক গর্দান থেকে নিয়ে ফরমাতেনঃ হে আমার শ্বাস গ্রহণের স্নিগ্ধ পুরবী বাতাস! তোমাকে স্বাগত জানাই।
শুধু তাই নয়, মদিনা শরিফের যে সব ধূলাবালি তাঁর চেহারা মোবারকে লাগত তা তিনি পরিষ্কার করতেন না। এমন কি যদি কোন সাহাবীকে দেখতেন যে, তিনি ধূলাবালি থেকে বেঁচে থাকার জন্য মাথা ও মুখমণ্ডলকে আবৃত করছেন, তখন তিনি নিষেধ করতেন এবং এরশাদ করতেন “মদিনার মাটি শেফা।” এ কারণেই মদিনা শরিফের আরেক নাম শাফিয়া অর্থাৎ আরোগ্যকারী।
বোখারী ও মুসলিম শরিফের হাদিসে বর্ণিত আছে যে ব্যক্তি মদিনা শরিফের “আজওয়া” নামক ৭টি খেজুর দিয়ে নাস্তা করবে, কোন প্রকার বিষ ও জাদু তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা দূরারোগ্য রোগে আজওয়া খেজুর খাবার পরামর্শ দিতেন। আজওয়া মদিনা শরিফের উৎকৃষ্ট খেজুর। বিভিন্ন বর্ণনায় রয়েছে, এ খেজুরের মূল বৃক্ষ নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত মোবারকে রোপণ করেছিলেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় খেজুর ছিল আজওয়া। উল্লেখ্য, নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মোহাব্বত করার কারণেই আজওয়া অনেক গুণে গুণান্বিত রয়েছে।
বিভিন্ন গ্রন্থে মদিনা শরিফের একশত ঊনিশ প্রকারের খেজুরের কথা উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েক প্রকারের খেজুর আজওয়ার পর নানা গুণে গুণান্বিত।
নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মদিনা শরিফে বসবাস ও অবস্থানের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তথাকার দুঃখ কষ্টের উপর ছবর এবং ধৈর্য্য ধারণের উপদেশ দিয়েছেন।
বস্তুতঃ মদিনা শরিফের ফযিলত বর্ণনা করে শেষ করার মত নয়। এ পবিত্র শহরকে নবী পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এত বেশি ভালবাসতেন, যা বর্ণনা করে শেষ হবার নয়। আশেকে রাসূলগণের আরজু থাকে মদিনা শরিফে বারে বারে যাওয়ার জন্য, যাতে রওজা পাকে সালাম পেশ করার সৌভাগ্য লাভ করা যায়।
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন। #আমীন।
<<< সবাই শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন >>>
Monday, 26 February 2018
ইমামে আহলে সুন্নাত ইমাম আহমদ রেজা খাঁ'র জীবনী
ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে দ্বীন মিল্লাত ইমাম আ'লা হযরত (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি রাহমাত)
এক অসাধারণ মনীষী ইমাম আ'লা হযরত (রহঃ)#নামঃ মুহাম্মদ আহমদ রেযা খান, উনার পিতা তাঁকে আহমদ মিঞা আর মাতা আমান মিঞা বলে ডাকতেন। তিনি নিজের নামের পূর্বে আব্দুল মোস্তফা অর্থাত বিশ্বনবী (দ.) এর গোলাম সংযোজন করতেন। .
#জন্ম_পরিচয় তিনি ভারতের বেরীলী শহরে ১০ই শাওয়াল,১২৭২ হিজরী মোতাবেক ১৪ই জুন ১৮৫৬ ইংরেজী রোজ শনিবার সম্ভ্রান্ত পাঠান বংশে জম্মগ্রহণ করেন। উনার জম্মের পূর্বে তাঁর পিতা একটি স্বপ্ন দেখলেন, ভোরে তাঁর পিতার নিকট স্বপ্নের কথাটি বর্ণনা করলে তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন,তোমার ঘরে এমন এক সন্তান জম্মগ্রহণ করবে, যে স্বীয় গুণাবলী যোগ্যতা ও পূর্ণতা দ্বারা প্রাচ্য ও পাশ্চত্যে সুপরিচিত হবে এবং মারেফাতের সমুদ্র প্রবাহিত করে জ্ঞান পিপাসুদের তৃষ্ণা নিবারণ করবে। উনার জম্মের পর হযরত রেযা আলী খান রহঃ তাঁকে কোলে নিয়ে ভবিষ্যত্বাণী করেন এ সন্তান একজন দেশবরেণ্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলিম হবে।
#বিদ্যার্জন_শুরুঃ তিনি ছোটবেলা থেকেই বিদ্যার্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, মাত্র চার বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআন মজিদ পাঠ শেষ করেছেন,উনাকে কোনদিন লেখাপড়া কিংবা মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য তাগিদ দেয়া হয়নি। তাইতো ১২৮৬ হিজরী সনে মাত্র ১৪ বত্সর বয়সে তিনি পাঠ্য শিক্ষায় শেষবর্ষ সনদ অর্জন করেন।
#স্বরণশক্তিঃ আ'লা হযরতের স্মরণ শক্তি ছিলো বিস্ময়কর,কোন পাঠ একবার শুনে দু একবার পড়েই হুবহু মুখস্হ শুনাতে উনার কোন কষ্ট হতোনা। নিম্মোক্ত ঘটনা থেকে উনার অসাধারণ স্ণরণ শক্তির ধারনা পাওয়া যায়- আ'লা হযরত কোরআনের হাফেজ ছিলেন না,কিন্তু এক ভক্ত উনার নামের সাথে অসাবধানতা বশত হাফেজ শব্দটি সংযোজন করতে দেখেন,অতঃপর তিনি বললেন আমি হাফেজ নই। তবে যদি কোন হাফেজ আমাকে পবিত্র কোরআনের এক এক রুকু করে পড়ে শুনান,তবে তা আমার নিকট পুনরায় মুখস্হ শুনতে পারবেন। সুতরাং কর্মসূচী ঠিক হলো প্রতিদিন এশার নামাযের পূর্বে পবিত্র কোরআনের পারস্পরিক শুনানো আরম্ভ হলো। কি আশ্চর্য! মাত্র ত্রিশ দিনে আ'লা হযরত ত্রিশ পারা মুখস্হ শুনান। অতঃপর এরশাদ করলেন বিহামদিল্লাহ (আল্লাহর প্রশংসাক্রমে) আমি এখন নিয়মিত গোটা কোরআন মজিদ মুখস্হ করে হাফেজ হয়েছি। এতে উনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো যেন আল্লাহর বান্দার কথা মিথ্যা না হয়। (সুবহানাল্লাহ)
আলা হযরত (রহঃ) বলেছেনঃ আমি যদি দ্বিলটাকে দ্বিখন্ডিত মোর,করি , আল্লাহ রসূল দুই খন্ডে দেহে, দেখবে অংকিত। সুবহানাল্লাহ!
#জ্ঞানের_দক্ষতাঃ তিনি প্রায় ৫৫ টি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এতটা বিষয়ে দক্ষতা আর কোন মনীষীর ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
#লেখনীঃ তিনি ছোট বড় মিলে প্রায় দেড় হাজার কিতাব রচনা করেছেন। এ জন্য তাকে জ্ঞান জগতের ইন্সাইক্লোপিডিয়া বলা হয়। উনার লেখনির পরিসংখ্যা অনুসন্ধান করলে অন্তত দৈনিক ৫৪ পৃষ্টা করে লিখনীর প্রমাণ পাওয়া যায়।
#তাসাওফ_ও_তরীক্বতঃ তিনি ১২৯৪ হিজরী, ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে সম্মানিত পিতা মাওলানা শাহ নক্বী আলী খান রহঃ এর সাতে হযরত শাহ আলে রসূল রহঃ এর দরবারে গিয়েছিলেন এবং উনার হাতে সিলসিলায়ে কাদেরিয়ায় বায়াত গ্রহণ করেন এবং এ মুর্শিদে কামেল আ'লা হযরতকে খিলাফত প্রধান করেন তাছাড়া আরো বিভিন্ন তরীকতের শায়খগণ উনাকে খিলাফত দান করেছিলেন যার সংখ্যা ১৩টি
#উনার_সম্পর্কে_বিখ্যাত_মনীষীদের_উক্তিঃ . ড.আল্লামা ইকবাল বলেছেন,জ্ঞানগত দিক দিয়ে মাওলানা আহমদ রেযা হলেন যুগের ইমাম আবু হানীফা (মাক্বালাত_ ই_ইয়উমে রেযা,৩য় খন্ড) .
#ভ্রান্ত_মতবাদীদের_মুখে_আ'লা_হযরতঃ
শরাফ আলী থানবী বলেছে, আমার যদি সুযোগ হতো তাহলে আমি মৌলভী আহমদ রেযা খাঁন বেরলভীর পেছনে নামায পড়ে নিতাম (উসউয়া_ই_ আকাবির ১৮পৃ)
আবুল আলা মওদুদী বলেছে, মাওলানা আহমদ রেযা খানের জ্ঞান গরিমাকে আমি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করি বিষয়ে অত্যন্ত উঁচু মানের ছিলেন, তাঁর এ শ্রেষ্ঠত্বেরকথা ঐ সমস্ত লোককও স্বীকার করতে হবে যারা তার সাথে বিরোধ রাখে। (মাক্বালাত_ই_ইয়োউমে রেযা ২য় খন্ড)।
#উনার_লিখিত_তিনটি_বিশ্ববিখ্যাত_কিতাবঃ
"কানযুল ঈমান" এটি কুরআনের তরজমা এটি এখন বিশ্বের অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে এটি এখন বাংলা ভাষাযও পাওয়া যাচ্ছে, অনুবাদক মাওলানা এম.এ.মান্নান।
"ফতোয়ায়ে রেজভীয়াহ" এটি বারো খন্ডে রচিত হানাফী মাযহাবের প্রশংসিত একটি ফতোয়ার কিতাব।
"হাদায়েখে বকশিশ" এটি প্রিয় নবীজীর শানে নাতে মুস্তফা (দ.) এর কিতাব।
#তিনি যখন ১৩৪০ হিজরী ২৫ সফর এ দুনিয়ার থেকে পর্দা করেছিলেন এই দিনে বায়তুল মুকাদ্দেসে সিরিয়ার এক বুযুর্গ স্বপ্নে দেখলেন,বিশাল মরুভূমিতে হুজুর (দ.) তাঁর অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়ানো উক্ত বুযুর্গ বললেন,নবীজীর দাঁড়ানোর পরিস্হিতি দেখে মনে হল তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করেছেন, আমি আরয করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ (দ.) কার জন্য অপেক্ষা করছেন, নবীজী উত্তর দিলেন আমার প্রেমিক হিন্দুস্তানের আহমদ রেযার জন্য।
#মসলকে_আ'লা_হযরতের_প্রচারঃ এখন বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী ইসলামীর মাধ্যমে এবং মিডিয়ায় মাদানী চ্যানেলের মাধ্যমে ১৮০টিরও বেশী দেশে মসলকে আ'লা হযরতের প্রচার হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ। .
#আ'লা_হযরতের_জীবনীর_উপর_ডিগ্রী_অর্জনঃ আল আযহার, বাংলাদেশের ঢাকা ও কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের ৩৩টি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আলা হযরতকে নিয়ে হাজার হাজার ছাত্ররা উচ্চতর ডিগ্রী, এম ফিল এবং পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করতেছেন।
#পরিশেষে_আরযঃ তিনি আমাদের জন্য যা করে গেছেন এবং যা দিয়ে গেছেন এর শোধ আমরা কখনো করতে পারব না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ এক শ্রেণীর হিংসুক স্বার্থান্বেষী মহল এ মহান ইমামের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত! আমরা অসংখ্য আ'লা হযরতের আশেক এ দুনিয়ায় এখনো রয়েছি, ইনশাআল্লাহ আমরা যদি মসলকে আ'লা হযরতের প্রচার প্রসার আরো বৃদ্বি করি তাহলে তাঁদের সমস্ত অপপ্রচার ধুলিসাত হয়ে যাবে।
হে আল্লাহ! তোমার এ প্রিয় বন্ধুর উছিলায় আমাদেরকে কবুল করুন 'আমিন'।
মাসলাকে আলা হযরত জিন্দাবাদ
Friday, 23 February 2018
খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রসেনার কাউন্সিল সম্পন্ন
খাগড়াছড়ি_জেলা_ছাত্রসেনার_কাউন্সিল_সম্পন্নঃ
নূর নবী সভাপতি,আবু ইরফান সাধারণ সম্পাদক ও মহিউদ্দীন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত
-------------------------------------------------
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ছাত্রসেনা একটি আদর্শিক পাঠশালা-
ছাত্রনেতা ফরিদুল ইসলাম
-------------------------------------------------
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা খাগড়াছড়ি জেলা শাখার কাউন্সিল-২০১৮ আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯ টায় খাগড়াছড়ি মুহাম্মদপুর শালবনস্থ আল-আমীন বারীয়া খানকা শরীফে মাওলানা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনু্ষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্বোধক ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মাওলানা আবু তাহের আনসারী। প্রধান অতিথি ছিলেন, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আত খাগড়াছড়ি জেলার সদস্য সচিব এডভোকেট আখতার উদ্দিন মামুন। প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি যুবনেতা কাজী মাওলানা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আবু এরফান আনসারীর সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, খাগড়াছড়ি জেলা যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুদুল আলম, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক ডাঃ এম. এম. হাসান, মানবসম্পদ সম্পাদক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা শুধু একটি অহিংস ছাত্রসংগঠন নয়; বরং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি একটি আদর্শিক পাঠশালা। তাই সপ্ত মূলনীতি ও পঞ্চ কর্মসূচীর আলোকে ছাত্রসেনার কর্মীদের চারটি স্তরে (সমর্থক, অনুগামী, সহগামী ও সভ্য) নির্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হয়। তাই ছাত্রসেনার নেতাকর্মীদের লেখাপড়ার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হয়। তিনি দেশের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বার বার ফাঁস হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বনাশ করা হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের কার্যক্রম ও উদ্যোগে যথার্থ নয়। এ ব্যাপারে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত অত্যাধুনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রসেনার ইতিহাস কলঙ্কমুক্ত আদর্শিক সংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ সংগঠন ছাত্রদের অধিকার অাদায়ের পাশাপাশি ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আত মতাদর্শ প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে সূফিবাদি অহিংস আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপি কাজ করে যাচ্ছে।
পরে কাউন্সিল অধিবেশনে মুহাম্মদ নূর নবীকে সভাপতি, মুহাম্মদ ওমর ফারুককে সহ-সভাপতি, মুহাম্মদ আবু এরফান আনসারীকে সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মুহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট ২০১৮-১৯ কার্যকরি পরিষদ গঠন করা হয়।
নূর নবী সভাপতি,আবু ইরফান সাধারণ সম্পাদক ও মহিউদ্দীন সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত
-------------------------------------------------
প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ছাত্রসেনা একটি আদর্শিক পাঠশালা-
ছাত্রনেতা ফরিদুল ইসলাম
-------------------------------------------------
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা খাগড়াছড়ি জেলা শাখার কাউন্সিল-২০১৮ আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯ টায় খাগড়াছড়ি মুহাম্মদপুর শালবনস্থ আল-আমীন বারীয়া খানকা শরীফে মাওলানা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনু্ষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্বোধক ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রসেনার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি মাওলানা আবু তাহের আনসারী। প্রধান অতিথি ছিলেন, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আত খাগড়াছড়ি জেলার সদস্য সচিব এডভোকেট আখতার উদ্দিন মামুন। প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি যুবনেতা কাজী মাওলানা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আবু এরফান আনসারীর সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, খাগড়াছড়ি জেলা যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাসুদুল আলম, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক ডাঃ এম. এম. হাসান, মানবসম্পদ সম্পাদক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা শুধু একটি অহিংস ছাত্রসংগঠন নয়; বরং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি একটি আদর্শিক পাঠশালা। তাই সপ্ত মূলনীতি ও পঞ্চ কর্মসূচীর আলোকে ছাত্রসেনার কর্মীদের চারটি স্তরে (সমর্থক, অনুগামী, সহগামী ও সভ্য) নির্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হয়। তাই ছাত্রসেনার নেতাকর্মীদের লেখাপড়ার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হয়। তিনি দেশের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বার বার ফাঁস হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বনাশ করা হচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের কার্যক্রম ও উদ্যোগে যথার্থ নয়। এ ব্যাপারে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত অত্যাধুনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রসেনার ইতিহাস কলঙ্কমুক্ত আদর্শিক সংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ সংগঠন ছাত্রদের অধিকার অাদায়ের পাশাপাশি ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা'আত মতাদর্শ প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে সূফিবাদি অহিংস আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপি কাজ করে যাচ্ছে।
পরে কাউন্সিল অধিবেশনে মুহাম্মদ নূর নবীকে সভাপতি, মুহাম্মদ ওমর ফারুককে সহ-সভাপতি, মুহাম্মদ আবু এরফান আনসারীকে সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মুহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট ২০১৮-১৯ কার্যকরি পরিষদ গঠন করা হয়।
ধিক্কার জানাই ই সব নামাজীকে জারা নামাজ আদায় করত কিন্তু ইমাম হোসাইনকে শহীদ করতে একটুও ভয় করলনা তারা
ধিক্কার জানাই ঐ সমস্ত নামাজীকে যারা কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মুনাফেক, লম্পট, এজিদের সেনাপতি সৈন্যদের বলিলেন সৈন্যগন হুসাইনের কল্লা আছরের নামাজের পূর্বেই শিরচ্ছেদ করতে হবে যাতে আছর নামাজ কাজা না হয়(আমাদের-নাউজুবিল্লাহ)। আমার কথা হচ্ছে তারা কেমন নামাজ আদায় করে ?এক দিকে নামাজের মধ্যে রাসূলে পাক (সাঃ)এর দরুদ পড়বে,আর অন্য দিকে তাহার আহলে বায়াতের রক্তে গোছল করবে। কারবালার ময়দানে এজিদ পক্ষে যারা ছিল তারা তো কোন সাধারন মুসলমান ছিলনা ।অনেক সাহাবীও ছিলো আবার বেশীর ভাগই ছিলো কোরানে মোফাসির/হাফেজ।কই তারাতো কেউ ঈমাম হুসাইনের পক্ষে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেনি বা নিষ্ঠুর এজিদের বিপক্ষে প্রতিবাদ করেন নি?তাহলে কেন নবীর প্রাণপ্রীয় নাতি, ইমাম হুসাইনকে পরিবারসহ জীবন দিতে হলো?? জানি এই কথাগুলি বলার কারনে আমি এজিদের গোলামদের কাছে নবী ওলীর দুষমনদের কাছে খারাপ হিসেবে পরিচিত হবো তবু ও নবী_ওলীর দুষমনেরা তোমরা জেনে নাও🔔🔔আমি হতে চাইনা এমন নামাজী,যে এদিকে মুখ ফিরে নামাজের নিয়ত করছে অন্য দিকে মুখ ফিরে রাসূলের (সাঃ) এর আহলে বায়েত কে হত্যা করছে। আমি চাইনা এমন জান্নাত যে জান্নাতের জন্য রাসূলের (সাঃ) আহলে বায়েত কে ধ্বংস করতে হবে।আমি চাইনা এমন ঈমান এমন আমল এমন সুখ যা পাওয়ার জন্য নূর নবীজির বংশের বিরুদ্ধে যেতে হয়.
Subscribe to:
Posts (Atom)




