ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে দ্বীন মিল্লাত ইমাম আ'লা হযরত (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি রাহমাত)
এক অসাধারণ মনীষী ইমাম আ'লা হযরত (রহঃ)#নামঃ মুহাম্মদ আহমদ রেযা খান, উনার পিতা তাঁকে আহমদ মিঞা আর মাতা আমান মিঞা বলে ডাকতেন। তিনি নিজের নামের পূর্বে আব্দুল মোস্তফা অর্থাত বিশ্বনবী (দ.) এর গোলাম সংযোজন করতেন। .
#জন্ম_পরিচয় তিনি ভারতের বেরীলী শহরে ১০ই শাওয়াল,১২৭২ হিজরী মোতাবেক ১৪ই জুন ১৮৫৬ ইংরেজী রোজ শনিবার সম্ভ্রান্ত পাঠান বংশে জম্মগ্রহণ করেন। উনার জম্মের পূর্বে তাঁর পিতা একটি স্বপ্ন দেখলেন, ভোরে তাঁর পিতার নিকট স্বপ্নের কথাটি বর্ণনা করলে তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন,তোমার ঘরে এমন এক সন্তান জম্মগ্রহণ করবে, যে স্বীয় গুণাবলী যোগ্যতা ও পূর্ণতা দ্বারা প্রাচ্য ও পাশ্চত্যে সুপরিচিত হবে এবং মারেফাতের সমুদ্র প্রবাহিত করে জ্ঞান পিপাসুদের তৃষ্ণা নিবারণ করবে। উনার জম্মের পর হযরত রেযা আলী খান রহঃ তাঁকে কোলে নিয়ে ভবিষ্যত্বাণী করেন এ সন্তান একজন দেশবরেণ্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আলিম হবে।
#বিদ্যার্জন_শুরুঃ তিনি ছোটবেলা থেকেই বিদ্যার্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, মাত্র চার বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআন মজিদ পাঠ শেষ করেছেন,উনাকে কোনদিন লেখাপড়া কিংবা মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য তাগিদ দেয়া হয়নি। তাইতো ১২৮৬ হিজরী সনে মাত্র ১৪ বত্সর বয়সে তিনি পাঠ্য শিক্ষায় শেষবর্ষ সনদ অর্জন করেন।
#স্বরণশক্তিঃ আ'লা হযরতের স্মরণ শক্তি ছিলো বিস্ময়কর,কোন পাঠ একবার শুনে দু একবার পড়েই হুবহু মুখস্হ শুনাতে উনার কোন কষ্ট হতোনা। নিম্মোক্ত ঘটনা থেকে উনার অসাধারণ স্ণরণ শক্তির ধারনা পাওয়া যায়- আ'লা হযরত কোরআনের হাফেজ ছিলেন না,কিন্তু এক ভক্ত উনার নামের সাথে অসাবধানতা বশত হাফেজ শব্দটি সংযোজন করতে দেখেন,অতঃপর তিনি বললেন আমি হাফেজ নই। তবে যদি কোন হাফেজ আমাকে পবিত্র কোরআনের এক এক রুকু করে পড়ে শুনান,তবে তা আমার নিকট পুনরায় মুখস্হ শুনতে পারবেন। সুতরাং কর্মসূচী ঠিক হলো প্রতিদিন এশার নামাযের পূর্বে পবিত্র কোরআনের পারস্পরিক শুনানো আরম্ভ হলো। কি আশ্চর্য! মাত্র ত্রিশ দিনে আ'লা হযরত ত্রিশ পারা মুখস্হ শুনান। অতঃপর এরশাদ করলেন বিহামদিল্লাহ (আল্লাহর প্রশংসাক্রমে) আমি এখন নিয়মিত গোটা কোরআন মজিদ মুখস্হ করে হাফেজ হয়েছি। এতে উনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো যেন আল্লাহর বান্দার কথা মিথ্যা না হয়। (সুবহানাল্লাহ)
আলা হযরত (রহঃ) বলেছেনঃ আমি যদি দ্বিলটাকে দ্বিখন্ডিত মোর,করি , আল্লাহ রসূল দুই খন্ডে দেহে, দেখবে অংকিত। সুবহানাল্লাহ!
#জ্ঞানের_দক্ষতাঃ তিনি প্রায় ৫৫ টি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এতটা বিষয়ে দক্ষতা আর কোন মনীষীর ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
#লেখনীঃ তিনি ছোট বড় মিলে প্রায় দেড় হাজার কিতাব রচনা করেছেন। এ জন্য তাকে জ্ঞান জগতের ইন্সাইক্লোপিডিয়া বলা হয়। উনার লেখনির পরিসংখ্যা অনুসন্ধান করলে অন্তত দৈনিক ৫৪ পৃষ্টা করে লিখনীর প্রমাণ পাওয়া যায়।
#তাসাওফ_ও_তরীক্বতঃ তিনি ১২৯৪ হিজরী, ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে সম্মানিত পিতা মাওলানা শাহ নক্বী আলী খান রহঃ এর সাতে হযরত শাহ আলে রসূল রহঃ এর দরবারে গিয়েছিলেন এবং উনার হাতে সিলসিলায়ে কাদেরিয়ায় বায়াত গ্রহণ করেন এবং এ মুর্শিদে কামেল আ'লা হযরতকে খিলাফত প্রধান করেন তাছাড়া আরো বিভিন্ন তরীকতের শায়খগণ উনাকে খিলাফত দান করেছিলেন যার সংখ্যা ১৩টি
#উনার_সম্পর্কে_বিখ্যাত_মনীষীদের_উক্তিঃ . ড.আল্লামা ইকবাল বলেছেন,জ্ঞানগত দিক দিয়ে মাওলানা আহমদ রেযা হলেন যুগের ইমাম আবু হানীফা (মাক্বালাত_ ই_ইয়উমে রেযা,৩য় খন্ড) .
#ভ্রান্ত_মতবাদীদের_মুখে_আ'লা_হযরতঃ
শরাফ আলী থানবী বলেছে, আমার যদি সুযোগ হতো তাহলে আমি মৌলভী আহমদ রেযা খাঁন বেরলভীর পেছনে নামায পড়ে নিতাম (উসউয়া_ই_ আকাবির ১৮পৃ)
আবুল আলা মওদুদী বলেছে, মাওলানা আহমদ রেযা খানের জ্ঞান গরিমাকে আমি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধা করি বিষয়ে অত্যন্ত উঁচু মানের ছিলেন, তাঁর এ শ্রেষ্ঠত্বেরকথা ঐ সমস্ত লোককও স্বীকার করতে হবে যারা তার সাথে বিরোধ রাখে। (মাক্বালাত_ই_ইয়োউমে রেযা ২য় খন্ড)।
#উনার_লিখিত_তিনটি_বিশ্ববিখ্যাত_কিতাবঃ
"কানযুল ঈমান" এটি কুরআনের তরজমা এটি এখন বিশ্বের অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে এটি এখন বাংলা ভাষাযও পাওয়া যাচ্ছে, অনুবাদক মাওলানা এম.এ.মান্নান।
"ফতোয়ায়ে রেজভীয়াহ" এটি বারো খন্ডে রচিত হানাফী মাযহাবের প্রশংসিত একটি ফতোয়ার কিতাব।
"হাদায়েখে বকশিশ" এটি প্রিয় নবীজীর শানে নাতে মুস্তফা (দ.) এর কিতাব।
#তিনি যখন ১৩৪০ হিজরী ২৫ সফর এ দুনিয়ার থেকে পর্দা করেছিলেন এই দিনে বায়তুল মুকাদ্দেসে সিরিয়ার এক বুযুর্গ স্বপ্নে দেখলেন,বিশাল মরুভূমিতে হুজুর (দ.) তাঁর অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়ানো উক্ত বুযুর্গ বললেন,নবীজীর দাঁড়ানোর পরিস্হিতি দেখে মনে হল তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করেছেন, আমি আরয করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ (দ.) কার জন্য অপেক্ষা করছেন, নবীজী উত্তর দিলেন আমার প্রেমিক হিন্দুস্তানের আহমদ রেযার জন্য।
#মসলকে_আ'লা_হযরতের_প্রচারঃ এখন বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী ইসলামীর মাধ্যমে এবং মিডিয়ায় মাদানী চ্যানেলের মাধ্যমে ১৮০টিরও বেশী দেশে মসলকে আ'লা হযরতের প্রচার হচ্ছে, সুবহানাল্লাহ। .
#আ'লা_হযরতের_জীবনীর_উপর_ডিগ্রী_অর্জনঃ আল আযহার, বাংলাদেশের ঢাকা ও কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের ৩৩টি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে আলা হযরতকে নিয়ে হাজার হাজার ছাত্ররা উচ্চতর ডিগ্রী, এম ফিল এবং পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করতেছেন।
#পরিশেষে_আরযঃ তিনি আমাদের জন্য যা করে গেছেন এবং যা দিয়ে গেছেন এর শোধ আমরা কখনো করতে পারব না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ এক শ্রেণীর হিংসুক স্বার্থান্বেষী মহল এ মহান ইমামের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত! আমরা অসংখ্য আ'লা হযরতের আশেক এ দুনিয়ায় এখনো রয়েছি, ইনশাআল্লাহ আমরা যদি মসলকে আ'লা হযরতের প্রচার প্রসার আরো বৃদ্বি করি তাহলে তাঁদের সমস্ত অপপ্রচার ধুলিসাত হয়ে যাবে।
হে আল্লাহ! তোমার এ প্রিয় বন্ধুর উছিলায় আমাদেরকে কবুল করুন 'আমিন'।
মাসলাকে আলা হযরত জিন্দাবাদ

No comments:
Post a Comment