Wednesday, 28 March 2018
Wednesday, 21 March 2018
Saturday, 17 March 2018
Thursday, 8 March 2018
Wednesday, 7 March 2018
Tuesday, 6 March 2018
দলীয় কাজে কৌশলী হোন, সাফল্য নিশ্চিত করুন
দলীয় কাজে কৌশলী হোন, সাফল্য নিশ্চিত করুন
এটা একটা নেকড়ের পালের দল বেধে চলার ছবি। এদের চলার নির্দিষ্ট ধরন আছে।
প্রথমের লাল বৃত্তের ৩ টা নেকড়ে হলো সবচেয়ে বয়ষ্ক, অসুস্থ ও দুর্বল। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা বেশী। তাদের সামনে দেয়া হয়েছে কারন তাদের গতি অনুযায়ী বাকি দল চলবে।
তাদের ঠিক পিছনের হলুদ দাগের ৫ জন যারা দলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং যোদ্ধা নেকড়ে। তাদের কাজ অগ্রবর্তী দলকে সাপোর্ট দেয়া এবং যেকোন আক্রমণ এলে সামাল দেয়া।
তাদের ঠিক পিছনে নবীন আর কম শক্তিশালীরা থাকে। কিন্তু মাঝের দলটাই সবচাইতে সুরক্ষিত। কারণ, তাদের পিছনে সবুজ চিহ্নিত দলটাও খুব শক্তিশালী এবং যোদ্ধা নেকড়ে। তাদের কাজ পিছন থেকে কোন আক্রমণ এলে প্রতিরক্ষা দেয়া।
তাদের ঠিক পিছনে নীল চিহ্নিত একাকী নেকড়েটাই হল দলনেতা। সবার পিছনে সে আসছে। তার দ্বায়িত্ব হলো কেউ পিছনে পড়ে যাচ্ছে কিনা, কারো কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা। সেই হচ্ছে দলনেতা (লিডার)।
নেতাদের সবসময় সামনেই থাকতে হবে এমন নয়, প্রয়োজনে সবার পেছনেও যেতে হয়। লিডারশিপ ব্যাপারটা এমনই।
যৌবন কালের ইবাদত শ্রেষ্ঠ ইবাদত
যৌবন কালের ইবাদত শ্রেষ্ঠ ইবাদত
বৃদ্ধ দাদু তার যুবক নাতী রায়হানকে ফজরের নামাজ
পড়তে ডাক দিলো! নাতী বললো.. "দাদু, তোমার
মতো বুড়ো হয়ে নিই তারপর আল্লাহকে
ডাকবো, বেশি বেশি ইবাদত করবো।"
জবাবে দাদু বললো.. "তুই কি আমার বয়স পর্যন্ত
যেতে পারবি? তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে?"
রায়হান কোনো উত্তর দিতে পারলোনা.!
দাদু বললো.. "চল আজ আমরা একটা গেম খেলি!"
: কি গেম?
: দৌড় প্রতিযোগীতা!
: হা.! হা.! হা.! তুমি আমার সাথে দৌড়াবে! কিন্তু কেন?
: পরে বলবো। আগেতো প্রতিযোগীতা
তো হোক।
: আচ্ছা।
.
দাদু ফজরের নামাজ শেষে নাতীকে ডাকলো এবং
প্রস্তুতি নিল এক কিঃমিঃ রাস্তা কে আগে পৌছাতে
পারে!
দুজনে দৌড় শুরু করলো। রায়হান ঠিকই তাড়াতাড়ি
আগেই পৌছে গেল। রায়হান পিছন ফিরে তাকিয়ে
দেখলো দাদু অনেক দুরে বসে আছে, দৌড়াতে
পারছেনা। রায়হান দৌড়ে দাদুর কাছে গেল। গিয়ে
দেখে দাদুর হাত পা কাঁপছে। দম বন্ধ হবার অবস্থা।
রায়হান দাদুর এই অবস্থা দেখে বললো.. "কি দরকার
ছিলো, তোমার যদি কিছু হয়ে যেতো?"
দাদু বললো.. "শোন তোকে আমি এটাই বুঝাতে
চাইছি যে, আমি যেমন মাঝপথে থেমে গেছি,
দৌড়িয়ে পৌছাতে পারলামনা। ঠিক তেমনি বৃদ্ধ বয়সের
ইবাদত আল্লাহর কাছে পৌছায়না। আর তুই যেমন খুব
দ্রুত পৌছে গেলি, ঠিক তেমনি যৌবন কালের ইবাদত
আল্লাহর কাছে দ্রুত পৌছে যায়। আল্লাহ্ তায়ালা যৌবন
কালের ইবাদত সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন।
এখন এই বৃদ্ধ বয়সে এসে আপসোস করা ছাড়া
আর কিছু করার নাই। কেন যে যুবক বয়সে আল্লাহর
ইবাদত করিনি!"
দাদু আরো বলতে থাকে... এই বৃদ্ধ বয়সে গায়ে
জোর নাইরে নাতী, মনেও নাই সতেজতা।
আল্লাহর ইবাদত করা ছাড়া আর কি করার আছে! এই
বয়সে অন্যকিছু করার থাকেনা বলে সবাই আল্লাহ্
খোদার নাম নেয়, যার গুরুত্ব কম। এখন আমি মৃত্যুর
দার প্রান্তে, একথা ভেবে আল্লাহকে ডাকছি।
বৃদ্ধ কালে সবার চোখের দৃষ্টি কমে যায়, যখন
কোরআন পড়তে যাই ভুল হয়ে যায়। স্বরন শক্তি
কমে গেছে, নামাজেও ভুল ভ্রান্তি হয়। সঠিক
ভাবে ইবাদত করা হয়না।
.
আর যৌবন কালে গায়ে শক্তি থাকে, দুচোখে
সবকিছু রঙিন লাগে, যা খুশি তাই করা যায়। অনেক কিছুই
করতে মন চায়। ঐ যৌবন কালে সবকিছুকে তুচ্ছ
করে আল্লাহর পথে চলা, তার ইবাদত করা,
যেনতেন কথানা! যে করতে পারে, সে'ই
জীবনে সফলকাম। যৌবন কালে সবার মেমেরি
থাকে সার্প। ভুল ভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
সঠিক ও শুদ্ধ ভাবে ইবাদত করা যায়। সবশেষে একটা
হাদিস শোন...
হযরত জিব্রাঈল (আঃ) বলেন.. "পৃথিবীতে কত
ফোটা বৃষ্টি পড়ে, আমি গননা করিতে পারি। কিন্তু
একজন বান্দার যৌবন কালের ইবাদতের যে নেকি
আল্লাহ্ তায়ালা দান করেন, তা আমি গননা করিয়া শেষ
করিতে পারিনা।"
.
রায়হান "সুবহানআল্লাহ্" বললো। দাদুর কথাগুলো
মনোযোগ সহকারে শুনলো। তারপর থেকে
রায়হান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে দেয়। এখন
প্রতিদিন দাদু আর নাতী একসাথে মসজিদে যায়।
Monday, 5 March 2018
আমার ধন-সম্পদ কোন উপকারে আসল না।
আমার ধন-সম্পদ কোন উপকারে আসল না।
অধ্যক্ষ হাফেয কাজী আবদুল আলীম রিজভী।
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ – وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ – يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ – مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيَهْ – هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ – خُذُوهُ فَغُلُّوهُ – ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ – ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ – إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ – وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ – فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هَاهُنَا حَمِيمٌ – وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ – لَا يَأْكُلُهُ إِلَّا الْخَاطِئُونَ-
অনুবাদ: (মহান আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন) এবং ওই ব্যক্তি, যার আপন আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, ‘হায় কোন মতে আমাকে আমার আমলনামা না দেয়া হতো! এবং আমি না জানতাম যে, আমার হিসাব কি? হায়, আমার মৃত্যুই যদি (কিস্সার) শেষ হতো । আমার ধন-সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না। আমার সমস্ত ক্ষমতা শেষ হয়ে গেল।’ (ফেরেশতাদের প্রতি নির্দেশ হবে) তাকে ধর। অতঃপর তার গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও। অতঃপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে ধ্বসিয়ে দাও। অতঃপর এমন শিকলে, যার দৈর্ঘ্য সত্তর হাত, তাকে শৃঙ্খলিত করে দাও। নিশ্চয় সে মহান আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করত না। এবং মিসকিনকে খাদ্য দানের প্রতি উৎসাহ দিত না। সুতরাং আজ এখানে তার কোন বন্ধু নেই। এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পূঁজ ব্যতীত। তা আহার করবে কেবল পাপীগণই। [২৫-৩৭ নং আয়াত, সূরা আল হাক্বক্বাহ]
আনুষঙ্গিক আলোচনা
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِه الخِ
উদ্ধৃত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসেরীনে কেরাম বর্ণনা করেছেন- আয়াতে বর্ণিত অবস্থা কাফির-মুশরিকদেরই করুণ পরিণতি হবে। তাদের উভয় হাত পেছনের দিকে বন্দী অবস্থায় থাকবে আর বাম হাতে আমলনামা দেয়া হবে। এটা তাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবার নিশ্চিত লক্ষণ। এর প্রেক্ষিতে তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও হা-হুতাশ শুরু হবে। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে এই বলে, ‘হায়! আমার যদি হিসাব-নিকাশের খবরই না থাকত! এমনি হিসাব জানার চেয়ে না জানাই উত্তম ছিল। আমার উপর যদি এমন স্থায়ী মৃত্যু এসে যেত, যার পরে জীবনই পাওয়া না যায়। তবে আমি এ লাঞ্চনা ও শাস্তি দেখতাম না।’ (সুবহানাল্লাহ)
আলোচ্য আয়াতের মর্মবাণীর আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত্যুর পর প্রতিটি মানুষই পাঠ করার যোগ্যতা অর্জন করবে। একারণে, প্রতিটি লোকই নিজের আমলনামা পাঠ করে মর্ম বুঝে ফেলবে। আর মৃত্যুবরণের পর প্রত্যেক মানুষের ভাষা হবে আরবি। তাই আমলনামা লিপিবদ্ধ হবে আরবিতে এবং তা পাঠ করে মর্মোদ্ধার করতে কষ্ট হবে না। এজন্য পরকালীন জীবনের প্রথম স্তর ‘কবর’ এর মধ্যে ‘মুনকার-নাকীরের’ সাওয়াল-জাওয়াব এবং আখিরাতের হিসাব-নিকাশ সবই আরবিতে হবে। আর জান্নাতীগণের ভাষা হবে আরবি। অতএব প্রতীয়মান হল আল্লাহর কুদরতের সালতানাতের সরকারী ভাষা হল আরবি। হাদীসে নববী শরীফে এরশাদ হয়েছে, عن ابن عباس رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا العرب لثلاث لانى عربى والقرأن عربى وكلام اهل الجنة عربى-(رواه البيهقى)
অর্থাৎ সাইয়্যেদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রসুলে কারীম রাউফুর রাহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা তিন কারণে আরব (এ আরবি ভাষা)কে ভালবাস। প্রথমত, আমি নবী আরবি ভাষাভাষি, দ্বিতীয়ত, পবিত্র কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ এবং তৃতীয়ত, বেহেশতবাসীগণের ভাষা আরবি। [বায়হাকী শরীফ]
অতএব আরবি ভাষাকে কোন অজুহাতে মুমিনগণের উপেক্ষা করার সুযোগ নেই; বরং আরবি ভাষাকে ভালবাসা ও আরবি চর্চায় উদ্বুদ্ধ হওয়া ঈমানী চেতনায় উজ্জিবীত হওয়ার লক্ষণ। পক্ষান্তরে, বিদেশী ভাষা হিসাবে আখ্যায়িত করে আরবি চর্চায় অবজ্ঞা-অনাগ্রহ প্রদর্শন করা নিতান্তই দুর্ভাগ্যের নমুনা।
مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيَهْ – هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ
উপরোক্ত আয়াত দু’টির ব্যাখ্যায় তাফসীরশাস্ত্র বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন, প্রথমোক্ত আয়াতে উল্লেখিত আফসোস-আক্ষেপ ও অনুশোচনা কেয়ামতের ময়দানে কাফির বেদ্বীনরাই করবে। কেননা, তাদের সঞ্চিত সম্পদ কবরে-হাশরে কেয়ামতের দিনে তাদের জন্য কোনরূপ উপকার-সুফল বয়ে আনবে না। কারণ তারা আল্লাহ-রাসুল-আখেরাতের উপর ঈমান আনয়ন করে নি। তাই জাগতিক জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের ব্যয় করা সম্পদ আর দুনিয়ায় রেখে যাওয়া সঞ্চয় তাদের নাজাতের জন্য কোন প্রকার সহায়ক হবে না। যেমন, অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَأُولَئِكَ هُمْ وَقُودُ النَّار
অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা কাফের, তাদের সম্পদ এবং সন্তানাদি আল্লাহর আযাব থেকে তাদেরকে কখনো কোনরূপ রক্ষা করতে পারবে না। তারাই জাহান্নামের ইন্ধন। [আলে ইমরান]
“সুরা লাহাবে এরশাদ হয়েছে, مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ অর্থাৎ অভিশপ্ত আবু লাহাব চিরতরে ধ্বংশ হল। তার সম্পদ এবং সারা জীবনের আয়-উপার্জন তাকে কোন প্রকারে রক্ষা করল না।
পক্ষান্তরে, মুমিনগণের সম্পদ দুনিয়া-আখেরাত উভয় জাহানে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং নাজাতের বড় অবলম্বন হবে। জাগতিক জীবনে তাদের আদায়কৃত যাকাত-ফিতরা-কুরবানী এবং নফল সদক্বাহ-খায়রাত-দান-দক্ষিণা আর সন্তান-সন্ততিসহ ওয়ারিছগণের জন্য রেখে যাওয়া মিরাছ তাদের জান্নাত লাভের জন্য বড় ও কার্যকর অবলম্বন হবে। যেমন,কুরআনে কারীমে এরশাদ হয়েছে, الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ –
অর্থাৎ যারা নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে রাতে ও দিনে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে (অর্থাৎ সর্বাবস্থায়) তাদের জন্য রয়েছে প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের নিকট এবং তাদের জন্য থাকবে না কোনরূপ ভয়-ভীতি আর তারা পেরেশানও হবে না। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا অর্থাৎ তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যয়সহ যে সব সৎকর্ম তোমরা আগে সম্পন্ন কর তা তোমরা প্রাপ্ত হবে আল্লাহর নিকট অধিকতর উত্তমরূপে এবং মহাপ্রতিদান হিসেবে। [সুরা মুয্যাম্মিল] উপরোক্ত আয়াত দু’টির মর্মালোকে প্রমাণিত হয়-মুমিনের সম্পদ উভয় জাহানে তাদের জন্য উপকার বয়ে আনবে।
মুফাসসেরীনে কেরাম বর্ণনা করেছেন, আরবি পরিভাষায় سلطان শব্দের অর্থ ক্ষমতা ও আধিপত্য। তাই রাষ্ট্রকে সালতানাত এবং রাষ্ট্রনায়ক কে সুলতান বলা হয়। মর্মার্থ এ যে, ‘দুনিয়াতে অন্যদের উপর আমার ক্ষমতা ও আধিপত্য ছিল। আমি সবার বড় একজন। আজ সেই রাজত্ব ও প্রাধান্য কোন কাজে আসল না।’ سلطان এর অপর অর্থ প্রমাণ-সনদও হতে পারে। তখন অর্থ হবে, ‘হায়! আজ আযাব হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমার হাতে কোন সনদ নেই। দুনিয়ার সকল প্রকার ক্ষমতা-কর্তৃত্ব আখেরাতে আল্লাহর দরবারে কোনরূপ উপকার বয়ে আনল না।’ কারণ, তারা আল্লাহ-রাসুল- আখেরাতের উপর ঈমান আনয়ন করে নি। তাই প্রমাণিত হল, ঈমানই দুনিয়া-আখেরাত উভয় জাহানে সকল প্রকার শান্তি,সমৃদ্ধি ও নাজাতের একমাত্র মূল ভিত্তি।
পরিশেষে, মহান আল্লাহর আলিশান দরবারে ফরিয়াদ জানাই তিনি যেন সকল মুমিন নর-নারীকে উপরোক্ত দরসে কুরআনের উপর আমল করে উভয় জাহানে সফলকাম হওয়ার সৌভাগ্য নসীব করেন। #আমীন।
সবাই শেয়ার করে অন্যদের জানিয়ে দিয়ে সদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব হাসিল করুন
Sunday, 4 March 2018
জানাযার নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মৃত ব্যক্তির জন্য দো’আ করা জায়েজ আছে কি?
জানাযার নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মৃত ব্যক্তির জন্য দো’আ করা জায়েজ
দলীল নং- ০১: পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, فاذا فرغت فانصب والى ربك فارغب – আর যখন আপনি অবসর হবেন, পরিশ্রম করুন এবং আপনার প্রতিপালকের দিকে মনোনিবেশ করুন। এ আয়াতের তাফসীরে আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) বলেন, عن قتادة والضحاك ومقاتل فى قوله تعالى- (فاذا فرغت فانصب) اى اذا فرغت من الصلاة المكتوبة فانصب الى ربك فى الدعاء و ارغب اليه فى المسآلة يعطيك – অর্থাৎ হযরত কাতাদাহ, দাহ’হাক ও মাকাতিল (রাঃ) আনহুম আল্লাহ পাকের এই বানী সম্পর্কে বলেন ((فاذا فرغت فانصب এর মর্মার্থ হল আপনি যখন ফরয সালাত শেষ করবেন, তখন নিজেকে দো’আ করার জন্য নিয়োজিত করে নেবেন এবং প্রার্থনা করার জন্য তারই প্রতি মনোনিবেশ করবেন। তিনি আপনাকে প্রদান করবেন। বর্ণিত আয়াতের তাফসীরকারকদের মতে, নামাযের দোয়ার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং জানাযা নামায যেহেতু এক প্রকার ফরয নামায যদি ও তা ফরযে কেফায়া। সেহেতু জানাযা নামাযের পর দো’য়া করা ও প্রমানিত।
দলীল নং- ০২:عن امامة رضى الله تعالى عنه قال قيل يا رسول الله اي الدعاء اسمع ؟ قال جوف الليل الاخرودبر الصلوات المكتوبات – অর্থাৎ হযরত আবু উমামাহ বাহেলী (রাঃ) হতে বর্নিত তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিঙ্ঘেস করা হলো যে, কোন মুহূর্তের দো’আ অধিক কবূল হয়ে থাকে? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন রাতের শেষাংশের দো’আ (তাহাজ্জুদের সময়) এবং ফরয নামায সমূহের পরের দো’আ (দ্রুত কবূল হয়ে থাকে)”। জানাযা যেহেতু ফরযে কেফায়ার নামায তাই এ নামাযের পরে ও দো’আ করা এ হাদীসের ভিত্তিতে জায়েয, যেভাবে পাচঁ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পরেও জায়েয।
দলীল নং- ০৩:عن ابي هريرة رضى الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء – অর্থাৎ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেলবে তখন সাথে সাথেই (বিলম্ব না করেই) তার জন্য একটি খাস দো’আ কর। এ হাদীস দ্বারা প্রমানিত হল যে, জানাযা নামাযের পর পরই মৃত ব্যক্তির জন্য খাস করে দো’আ করতে হবে। জানাযা নামাযের পর দো’আ অস্বীকারকারীগণ এ হাদীসের উল্লেখিত দোয়াকে নামাযের মধ্যে পঠিত দো’আ অথবা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরস্থানে দো’আ করাকে বুঝাতে আপ্রান চেষ্টা চালায়। তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আলোচ্য হাদীসে فاخلصواশব্দের মধ্যে فاء হরফের অর্থ কি? আল্লামা সিরাজুদ্দীন উসমান (রহঃ) এর নাহু শাস্ত্রের বিখ্যাত কিতাব হেদায়াতুন নাহুতে হরফের অধ্যায়ে فاءহরফের অর্থ লিখা হয়েছেالفاء للترتيب بلا مهلة نحو قام طفيل فبرهان و اذا كان الطفيل متقدم وبرهان متاخرا بلا مهلة অর্থাৎ فاء হরফটি বিলম্বহীন পর্যায়ক্রমিক অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন قام طفيل وبرهان অর্থ তুফাইল দাঁড়ালো অতঃপর বুরহান দাঁড়ালো। এ উদাহরনটিতে তুফাইলের দাঁড়ানো বুরহানের পূর্বে হবে এবং বুরহানের দাঁড়ানো বিলম্বহীন ভাবে তুফাইলের পরে হবে। অর্থাৎ বুরহানের দাঁড়ানো তুফাইলের পূর্বে বা তার সাথে হবে না। এমনকি তুফাইলের দাঁড়ানোর অনেক পরে ও হবে না বরং তুফাইল দাঁড়ানোর পর তার সাথে সাথেই বুরহান দাঁড়াবে।
সুতরাং উক্ত হাদীস শরীফের ইবারত হল- اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء অর্থাৎ যখন তোমরা মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়ে ফেল। অতঃপর তাঁর জন্য খাস করে দো’আ কর। আলোচ্য ইবারতে প্রথমে নামায পড়ার কথা বলা হয়েছে। তার পর দো’আ করার জন্য বলা হয়েছে। তাই উক্ত দোয়াটি নামাযে পঠিত দো’আ হিসেবে গন্য হবেনা। নামাযের পরেই বিলম্ব না করে দো’আ করতে হবে। এবং নামাযের পর দাফন পর্যন্ত বিলম্ব করে তার পরে পঠিত দো’আ হিসেবে ও উক্ত দো’আটি যদি দাফনের পরবর্তী দোআ হিসেবে বুঝানো হত তাহলে হাদীস শরীফের ইবারতেفاء হরফ ব্যবহার না করে ثم(ছুম্মা) হরফ ব্যবহার করা হত কারণ ছুম্মা হরফের অর্থ হলো الترتيب بمهلة অর্থাৎ বিলম্বের সহিত পর্যায়ক্রম। যেমন বলা হয়। دخل انوار ثم محمودঅর্থাৎ আনওয়ার প্রবেশ করল অতঃপর বিলম্ব করে মাহমুদ প্রবেশ করল। অনুরূপ ফা হরফের অর্থ দুরুসুল বালাগাত কিতাবের প্রনেতা আল্লামা বেগ নাসেফ, মুহাম্মদ বেগ দিয়াব, মুস্তফা তাম্মুম ও সুলতান আফেন্দী (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”। অনুরূপ ফা হরফের অর্থ কাফিয়া কিতাবের প্রনেতা আল্লামা জালালুদ্দীন ইবনে হাযেব (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”। অনুরূপ (ফা) হরফের অর্থ নুরুল আনওয়ার কিতাবের ব্যাখ্যাকার আল্লামা মোল্লা জীউন (রাহঃ) বর্ননা করেছেন”।
তাই বুঝা গেল রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাযা নামাযের পর পরই দোআ করার জন্য আদেশ করেছেন। আর যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশের বিপরীতে কথা বলে তাদের ঈমান আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
দলীল নং- ০৪: প্রসিদ্ধ ফকীহ ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমাম (রাহঃ) তার ফাতাওয়ার কিতাবে মুতার যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ করেন। হযরত আব্দুল জাব্বার বিন উমারাহ (রাঃ) তিনি হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবী বাকরাহ (রাঃ) থেকে তিনি বলেন যখন (শামদেশে) মুতানামক স্থানে (মুসলমান এবং কাফের) যুদ্ধ শুরু করল। তখন রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর) মিম্বরে বসা ছিলেন, তখন তার এবং শাম দেশের মধ্যবর্তী স্থানের সকল আবরন দূর করে উন্মক্ত করে দেয়া হল। তিনি মুতার যুদ্ধ সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে লাগলেন। অতঃপর রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রাঃ) (ইসলামের) পতাকা হাতে নিয়েছেন। কিছুক্ষন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জানাযার নামায পড়লেন এবং তার জন্য দোআ করলেন ও (উপস্থিত সাহাবীদের উদ্দেশ্যে) বললেন তোমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি জান্নাতে প্রবেশ করে সেখানে ঘুরাফেরা করছেন। অতঃপর হযরত জাফর ইবনু আবী তালেব (রাঃ) পতাকা নিজ হাতে নিলেন কিছুক্ষন অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি শাহাদাত বরণ করলেন। فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه و سلم ودعا له وقال استغفروا له অর্থাৎ অতঃপর রসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযা নামায পড়লেন এবং তার জন্য দোআ করলেন লোকদেরকে ও তার মাগফিরাতের জন্য দোআ করতে বললেন”।
দলীল নং- ০৫: মুতার যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীর জানাযা নামাযের পর কী করলেন তা ইমাম বায়হাক্বী (রাহঃ) সুন্দর করে সহীহ সনদে এভাবে বর্ননা দিচ্ছেন
عن عاصم بن عمر بن قتادة ان النبى صلى الله عليه و سلم قال لما قتل زيد اخذ الراية جعفر بن ابى طالب فجاءه الشيطان فجبب اليه الحياة وكره اليه الموتى ومنه الدنيا فقال الان حين استحلم الايمان فى فلوب المؤمنين تمنينى الدنيا ؟ ثم مضى قدوما حتى استشهد فصلى عليه صلى الله عليه و سلم ودعا له وقال استغفروالاخيكم فانه شاهد دخل الجنة وهو يطير فى الجنة بجناحين من ياقوت حيث يشاء من الجنة
অর্থাৎ হযরত আছিম বিন উমর বিন কাতদাহ (রাঃ) বর্ননা করেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জানাযার নামায পড়লেন এবং তাঁর জন্য দোআ করলেন তারপর বললেন তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার কর, নিশ্চয়ই সে এখন শহীদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং ইয়াকুত ডানায় ভর করে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে উড়ে বেড়াচ্ছেন ”।
দলীর নং- ০৬: বিখ্যাত হানাফী ফকীহ ও মুহাদ্দিস আল্লামা কাসানী ওফাত ৫৮৭ হিজরী হাদীসটি দুজন সাহাবী এ ভাবে বর্ননা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) এবং হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত-
فاتتهما صلاة على جنازة فلما حضرا ما زاد على الاستغفار له و روي عن عبد الله بن سلام انه فاتته الصلاة على جنازة عمر رضى الله عنه فلما حضر قال: ان سبقتمونى بالصلاة عليه فلا تسبقونى بالدعاء له –
অর্থাৎ উভয়ে এক জানাযায় গিয়ে জানাযার নামায না পেয়ে মায়্যিতের জন্য ইস্তিগফার পড়লেন বা দোআ করলেন। আরেক বর্ননায় রয়েছে একদা হযরত উমর (রাঃ) এর জানাযা যখনই শেষ হয়েগেল তখন হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) আসলেন, তিনি বললেন হে আমার সাথীরা! তোমরা আমার পূবেই জানাযার নামায পড়ে ফেলেছো কিন্তু জানাযার পর দোআ আমাকে বাদ দিয়ে করো না অর্থাৎ আমাকে সাথে নিয়েই দোআা করো ”।
উক্ত বর্ণনার দ্বারা প্রমানিত হয় যে, সাহাবায়ে কেরামগন জানাযার পর পুনরায় দোআ করতেন। এটা ছিল সাহাবাগনের সম্মিলিত আমল, সুতরাং জানাযার পর দোআ করা সাহাবীদের সুন্নাত।
দলীল নং- ০৭: হযরত ইবরাহীম হিজরী (রাঃ) বললেন আমি হযরত আবদুল্লাহ বিন আওফা (রাঃ) যিনি বাইতুর রিদওয়ানের তাঁর কন্যার ওফাত হলে তিনি তাঁর মেয়ের কফিনের পেছনে একটি খচ্ছরের উপর সওয়ার হয়ে যাচ্ছেন। তখন মহিলারা কান্না করতে ছিলেন। তিনি তাদেরকে বললেন তোমরা মর্সিয়া করোনা, যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মর্সিয়া করতে নিষেধ করেছেন। তবে তোমাদের মধ্যে যে কেউ চায় অশ্রু ঝরাতে পারবে।ثم صلى عليها فكبر عليها اربعا’ثم قام بعد الرابعة قد ربين ما بين التكبرتين يستغفر لها ويدعو وقال: كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يصنع هكذا এরপর জানাযার নামায চারটি তাকবীরের মধ্যে সম্পন্ন করলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর, দুই তাকবীরের মধ্যখানের সময় পরিমান দো’আ করতে ছিলেন এবং তিনি (সাহাবী) বললেন অনূরূপ রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাযায় করতেন”।
দলীল নং- ০৮: বর্নিত হয়েছে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটা জানাযার নামায শেষ করলেন। এরপর হযরত ওমর (রাঃ) উপস্থিত হলেন তাঁর সাথে কিছু লোক ও ছিল। তিনি দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়তে চাইলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম বললেন জানাযার নামায দ্বিতীয় বার পড়া যায়না ولكن ادع للميت و استغفر له তবে তুমি মৃত ব্যক্তির জন্য দোআ করতে পার এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো”।
সুতরাং উপরোক্ত দলিলাদির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম জানাযা নামাযের পর মৃত ব্যক্তির জন্য তাঁর বিদায় বেলায় মুনাজাত বা দোআ করা একটি উত্তম উপহার। আমাদের সাধারণ বিবেক বলে এত দিন যারা আমাদের একান্ত আপনজন হিসেবে ছিলেন যারা আমাদের সুখে-দুঃখে ছিলেন তাদেরউপকার করার জন্য কোন উপায় আমাদের নেই। কেবল তাদের জন্য দোআ করাই একমাত্র উপহার। শরীয়ত সম্মত একটি উত্তম আমল জানাযার পর দোআ করার বিরোধিতা করতে গিয়ে সমাজে ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি কারীরা একটি খোড়া যুক্তি অবতারনা করে বলে বেড়ায় জানাযাইতো দোআ আবার দোয়ার কী প্রয়োজন? আমরা বলতে চাই দোআ করা যদি না জায়েয হয় তাহলে ভাত খাওয়ার পর আর কিছু খাওয়া যাবে না। কারন খাওয়ার পর আবার কিসের খাওয়া? বিষয়টি একবারে হাস্যকর। মূলত জানাযা কেবল দোআ হিসেবে আখ্যায়িত করা অজ্ঞতার নামান্তর। কারণ যে কারণে তারা জানাযাকে দোআ বলতে চায় সে কারনে অন্যান্য নামাযকে ও দোআ বলতে হবে। কেননা সকল নামাযের ভিতরে কোন না কোনোভাবে দোআ রয়েছে।
এবার যুক্তিকে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা প্রয়োজন। মূলত জানাযার নামায দোআ নয়। নামাযের সকল শর্তাবলী জানাযার নামাযে ও বিদ্যমান। যেমনঃ
১) জানাযার জন্য ওযু কিংবা তায়াম্মুম শর্ত কিন্তু দোয়ার জন্য শর্ত নয়।
২) জানাযার জন্য কিবলামুখী হওয়াশর্ত কিন্তু দোয়ার জন্য নয়।
৩) জানাযার জন্য কিয়াম তথা দাড়ানো শর্ত দোয়ার জন্য নয়।
৪) ফিকহের কিতাব সমূহে কোথাও জানাযাকে দোআ হিসেহে উল্লেখ করা হয়নি বরং সব জায়গায় লিখা আছে “সালাতুল জানাযাহ” তথা জানাযার নামায। এমনকি জানাযার পূর্বে যে নিয়ত করা হয় তাতে ও আমরা বলে থাকি “সালাতিল জানাযাহ” দোআ -ইল- জানাযাহ কেউ বলেনা।
৫) যে কারনে নামায ভঙ্গ হয় সে কারণে জানাযার নামায ও ভঙ্গ হয়।
৬) নামায জামাতে হয় জানাযা ও জামাতে হয়।
৭) নামাযে নিয়্যত আছে জানাযায় ও নিয়্যত আছে।
৮) নামাযে সালাম আছে জানাযায় ও সালাম আছে।
৯) জানাযায় রুকু সিজদা নেই একেক ধরনের নামায একেক ধরনের হয় যেমন ইস্তিকার নামায, ইস্তিখারার নামায, সালাতুত তাসবীহ ইত্যাদি বিভিন্ন রূপ (উসুলুশ শাশী)।
১০) নামায থেকে সালাম দ্বারা বের হতে হয় জানাযায় ও তাই কিন্তু দোআ থেকে পৃথক হতে সালাম প্রয়োজন হয়না।
১১) ফরয নামাযের পর দোআ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমানিত জানাযার নামায ফরযে কেফায়া তাই এতে ও দোআ অপরিহার্য।
১২) সালাতুল মাগরিবকে মাগরিবের দোআ বলা হয় না বরং নামায বলা হয় তাহলে সালাতুল জানাযাকে জানাযার দোআ কেন বলা হবে? তাই এটা ও নামায।
১৩) নামাযের জন্য আযান আছে, জানাযার জন্য ও এলান (ঘোষনা) আছে সকল নামাযেই দোআ আছে শুধু জানাযাকে খাস করা ঠিক নয়।
১৪) নামাযে মাসবুক (বিলম্বে আসলে) যেভাবে পরবর্তীতে নামায সম্পন্ন করতে হয় একই ভাবে জানাযার একই হুকুম। কিন্তু দোআয় মাসবুকের মাসআলা নেই।
১৫) দোআয় এদিক সেদিক তাকানো যায়, নামাযে ও জানাযায় তাকানো যায়না, তাই জানাযার নামায দোআ হয় কী করে।
১৬) নামাযে মুক্তাদীর জন্য “ইক্তিদা” আছে জানাযায় ও আছে।
১৭) ইস্তিসকার নামায মাঠে ময়দানে হয় জানাযার নামায ও তাই বরং প্রয়োজনে মসজিদে ও পড়া যায়।
১৮) বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরের কিতাব তাফসীরে জালালাইনে আছে, আর যখন নামায হতে অবসর গ্রহন করবে অতঃপর দোয়ার মধ্যে মশগুল হয়ে যাও। নামায শেষ হওয়ার পর দোআর কথা বলা হয়েছে। জানাযা দোআ নয় বরং নামায, তাই তাঁর পর দোআ করতে হবে। সুতরাং একটি ফরযে কিফায়ার নামাযকে কেবল দোআ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে হালকা করে দেয়ার কোন মানে হয়না।
অতএব আসুন তর্কের খাতিরে তর্কনয় বরং সত্যকে জানার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্যকে মান্য করার চেষ্টা করি। আমীন! বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাম।
ইসলাম কিভাবে অন্য ধর্ম থেকে আলাদা
ইসলাম কিভাবে অন্য ধর্ম থেকে আলাদা
আমরা বিশ্বাস করতে চাই, পৃথিবীর সব মানুষই মূলত একই রকম এবং সবাই একই জিনিস চায়। কিন্তু আমাদের এই বিশ্বাস যদি ঠিক না হয় তাহলে কী হবে?
বাস্তব এবং তত্ত্ব উভয় ক্ষেত্রেই ইসলাম ‘ব্যতিক্রমী’। রাজনীতির সাথে এই ব্যতিক্রমী ইসলামের সম্পর্ক কী?
আইন ও সুশাসনে বিশাল ইতিবাচক ভূমিকার কারণে ইসলাম ‘সেকুলারাইজেশন’ প্রতিরোধে অতীতেও অবদান রেখেছে, ভবিষ্যতেও রাখবে। এই মুহূর্তে আমি অবশ্য জোর গলায় এই দাবি করতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি। বিশেষত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের নামে ‘ইসলামবিরোধী’ কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে আমার এই অস্বস্তি। তবে ‘ইসলামি বৈচিত্র্যময়তা’ ভালো না খারাপ এটা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। বিষয়টি যদি আমাদের আশা ও অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধেও চলে, তবুও আমাদের সঠিক জিনিসটি বুঝতে হবে এবং এর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া উচিত। প্রথমত, ইসলামের ‘প্রতিষ্ঠা মুহূর্ত’ বিশাল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নবী মোহাম্মদ সা: ছিলেন যিশুখ্রিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির। তিনি যিশুর মতো শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। তিনি একই সাথে ছিলেন একজন তাত্ত্বিক, একজন ধর্ম প্রচারক, একজন রাজনীতিবিদ এবং সর্বোপরি একজন যোদ্ধা। তিনি একটি নতুন রাষ্ট্রের নির্মাতা ও নেতা ছিলেন। তিনি নতুন নতুন এলাকা জয় করেছেন এবং সেসব এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে তার নেতৃত্ব মেনে নিলে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের কোনো সমস্যা ছিল না। তাদের ওপর কোনো অত্যাচার বা নিপীড়ন করা হতো না। সবাইকে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বিজড়িত করা হতো।
দ্বিতীয়ত, মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন হচ্ছে তাদের কাছে সরাসরি আল্লাহর আক্ষরিক বক্তৃতা। এর বিশুদ্ধতা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। অনেকে মনে করেন কোনো প্রমাণ ছাড়া মুসলমানেরা এটাকে কিভাবে ‘ঐশ্বরিক’ বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে? তাহলে সব মুসলমানই কি অশিক্ষিত? মোটেও তা নয়। কেননা কুরআনের একটি বাক্যও কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অপ্রাসঙ্গিক বলে প্রমাণ করতে পারেনি।
মুসলমানেরা অবশ্যই তাদের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের আবহে ফিরে যেতে বাধ্য নয়, সেটা সম্ভবও নয়। তাই বলে ওই সময়ের সবকিছুকে পরিত্যাগ করাও উচিত নয়। সুস্পষ্ট ধর্মীয় বিধানগুলো কোনো অবস্থাতেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না। একটি আদর্শ বিশ্বের জন্য চলমান যুদ্ধে আমরা চাই সেকুলার মুসলিমদের চিন্তাচেতনার জয় হোক। কিন্তু এই জয় দেখতে পাওয়াটা খুবই জটিল ও কঠিন একটি বিষয়। তবে ইসলাম যদি খ্রিষ্টান বা অন্য সব ধর্মের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন ধাঁচের হয়ে থাকে তাহলে যত কঠিনই হোক এ জয় একদিন আসবেই। সঠিক সংস্কারের মাধ্যমে মানবসভ্যতা আলোকিত হবেই।
অন্য সবার জন্য এই বার্তা কী অর্থ বহন করে। এর অর্থ পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের এমন কিছু করা উচিত যা তাদের জন্য কিছুটা জটিল ও কঠিন এবং একই সাথে অস্বস্তিকর। তাদের উচিত রাজনীতিতে ইসলামের বৈচিত্র্যময় ও অত্যাবশ্যক নীতিগুলো প্রয়োগ করা। অন্যথায় ‘ধর্মনিরপেক্ষকরণের’ ফলাফল তারা শিগগিরই ভোগ করবে।
শাদি হামিদ, মার্কিন লেখক ও চিন্তাবিদ। জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফরেন সার্ভিস থেকে বিএসসি ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরে তিনি বিশ্ববিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি বিশ্বের সম্পর্কবিষয়ক কেন্দ্রের সিনিয়র ফেলোর দায়িত্ব পালন করছেন।
তার লেখা সর্বশেষ বই ‘ ইসলামিক একসেপশনালিজম : হাও দ্য স্ট্রাগল ওভার ইসলাম ইজ রিশেপিং দ্য ওয়ার্ল্ড’ ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর আগে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত তার ‘টেম্পটেশন অব পাওয়ার : ইসলামিস্ট অ্যান্ড ইললিবারেল ডেমোক্রেসি ইন এ নিউ মিডল ইস্ট’ বইটি ফরেন এফেয়ার্স বেস্ট বুক-২০১৪ নির্বাচিত হয়।
দাড়ি, টুপি , জুব্বা ও সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা
দাড়ি, টুপি , জুব্বা ও সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা
সব কথার বড় কথা আগে জানতে হবে সুন্নাত কি? সুন্নাতের শাব্দিক অর্থ কথা,কাজ এবং মৌন-সম্মতি অর্থাৎ দয়াল নবী করিম (সঃ) কে অনুসরন ও অনুকরন করাই হলো সুন্নাত । তাই তো কুরআনে এসেছে
“তোমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের(সঃ) আনুগত্য কর”। সুরা মুহাম্মাদ-৩৩
হাদিসে এসেছে হযরত মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন, “মুমিনদের ভিতরে কিছু লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কিছু লোক বঞ্চিত হবে। সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলো হে আল্লাহর রাসুল কে বঞ্চিত হবে ? তিনি বললেন , তাদের মধ্যে যারা আমাকে মান্য করেছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যারা করেনি তারা জান্নাতে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হবে”।(বুখারী-৭২৮০)
যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তথা পথ-পদ্ধতিকে জিন্দা করবে তথা পালন করবে, সে আমাকে ভালবাসল, আর যে, আমাকে ভালবাসল, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৬৭৮}
এবার আসুন দাড়ি টুপি ও জুব্বার কথা
এমন কতিপয় সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট ছাড়া রাসূল সাঃ এর প্রতিটি আমল, প্রতিটি চাল-চলন একজন নবী প্রেমিক উম্মতের কাছে আদর্শ ও পালনীয়।
রাসূল সাঃ এর সকল আমলকে আদর্শ সাব্যস্ত করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন
"যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে,তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে। {সূরা আহযাব-২৩}
পোশাকের মাঝে রাসূল সাঃ কোন নমুনা আমাদের জন্য রেখে যান নি? তিনি শুধু মক্কার কাফেরদের অনুসরণে জামা কাপড় পরিধান করে গেছেন? এমন কথা রাসূল বিদ্বেষী ছাড়া অন্য কেউ কিছুতেই বলতে পারে না।
যারা আল্লাহ ও হাশরে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য নবীজীর পোশাকে, নবীজী কথায়, নবীজীর প্রতিটি আমলে উত্তম নমুনা আছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ পাক সেটা কোন মুসলমান বিবেচনা করতে পারে না। একজন মুসলমান দেখবে আমাদের আদর্শ, আমাদের পথিকৃত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ কী করেছেন? রাসূল সাঃ এর প্রতিটি কাজের শর্তহীন ও যুক্তিহীনভাবে অনুসরণের নাম দ্বীন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন
বলুন,যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস,তাহলে আমাকে অনুসরণ কর,যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। {সূলা আলে ইমরান-৩১}
সর্বক্ষেত্রে নবীজীর অনুসরণকে আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন বলা হয়েছে। আর হাদীসে কাফেরদের অনুসরণকে জাহান্নামী হওয়ার নিদর্শন বলা হয়েছে
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৪০৩৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-২৯৬৬, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-২০৯০৮৬)
একজন মুমিন মুসলমান প্রতিটি আমলে রাসূলের মাঝে আদর্শ ও নমুনা খুঁজে বেড়ায়। ভুল হলে মার্জনা করবেন।
Saturday, 3 March 2018
পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে ৪০টি উপদেশবাণী
পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে ৪০টি উপদেশবাণী
১] কঠোর ভাষায় কথা বলনা (৩:১৫৯)
২] রাগ দমন কর (৩:১৩৪)
৩] অন্যের সাথে ভাল আচরণ কর (৪:৩৬)
৪] নিষ্ঠুর হইও না (৭:১৩)
৫] অন্যের ভুলকে ক্ষমা কর (৭:১৯৯)
৬] মানুষের সাথে নম্র ভাষায় কথা বল (২০:৪৪)
৭] আস্তে শব্দ কর (৩১:১৯)
৮] অন্যকে বিপদ গ্রস্ত করোনা (৪৯:১১)
৯] পিতা মাতার উপর দায়ীত্ববান হও (১৭:২৩)
১০] পিতা মাতার সাথে উফ শব্দটাও বলনা (১৭:২৩)
১১] না বলে পিতা মাতার ঘরে প্রবেশ করনা (২৪:৫৮)
১২] বকেয়া লিখে রাখ (২:২৮২)
১৩] কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করনা (২:১৭০)
১৪] ঋন ফিরিয়ে দেওয়ার আরো সুযোগ দিতে হবে
(২:২৮০)
১৫] সুদ নিও না (২:২৭৫)
১৬] ঘুষ খেয়ো না (২:১৮৮)
১৭] শর্ত ভাঙিয়ো না (২:১৭৭)
১৮] বিশ্বাস বজায় রাখো (২:২৮৩)
১৯] সত্যকে মিথ্যার সাথে মিলিয় না (২:৪২)
২০] মানুষের মাঝে সঠিক বিচার কর। (৪:৫৮)
২১] সুবিচারে কঠোর অবস্থান রাখো (৪:১৩৫)
২২] মৃত ব্যাক্তির সম্পদ তার পরিবারে সঠিক ভাবে
ভাগ করে দাও (৪:৭)
২৩] নারীদেরও উত্তরোধিকার হওয়ার নিয়ম আছে
(৪:৭)
২৪] এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করোনা (৪:১০)
২৫] এতিমকে রক্ষা করো (২:২২০)
২৬] অন্যের সম্পদ কৌশলে গ্রাস করোনা (৪:২৯)
২৭] মানুষের মধ্য বিবাদ মিমাংসা কর (৪৯:৯)
২৮] সন্দেহ এড়িয়ে চল (৪৯:১২)
২৯] পিছে কান পেত না (২:২৮৩)
৩০] সাহায্যার্থে সম্পদ ব্যয় কর (৫৭:৭)
৩১] গরীবকে খাওয়াতে উৎসাহ প্রদান কর (১০৭:৩)
৩২] প্রয়োজনে সাহায্য করো (২:২৭৩)
৩৩] অপচয় করোনা (১৭:২৯)
৩৪] অথিতি আপ্যায়ন কর। (৫১:২৬)
৩৫] নিজে যাচাই করে অন্যকে করতে বল (২:৪৪)
৩৬] পৃথিবীতে কোনকিছুর অপব্যবহার করনা (২:৬০)
৩৭] যুদ্ধের সময় পালায়ন কর না (৮:১৫)
৩৮] যে যুদ্ধ করে শুধু তার সাথে যুদ্ধ কর। (২:১৯০)
৩৯] যুদ্ধে শিষ্টাচার বজায় রাখ। (২:১৯১)
৪০] ধর্মের ব্যাপারে জোর কর না (২:২৫৬)
জিহ্বার মাধ্যমে ১৫টিরও বেশী মারাত্মক দোষ(গুনাহ)আছে, যেগুলো জিহ্বা ব্যতীত সংগঠিত হতে পারে না সেগুলো হচ্ছেঃ
জিহ্বার মাধ্যমে ১৫টিরও বেশী মারাত্মক দোষ(গুনাহ)আছে, যেগুলো জিহ্বা ব্যতীত সংগঠিত হতে পারে না সেগুলো হচ্ছেঃ
'
১. মিথ্যা বলা;
২. খারাপ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা;
৩. অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা;
৪. গালি দেয়া;
৫. নিন্দা করা;
৬. #অপবাদ দেয়া;
৭. #চোগলখুরী করা;
৮. বিনা প্রয়োজনে #গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া;
৯. মোনাফিকী করা ও #দুই #মুখে কথা বলা;
১০. বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা
১১. বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা;
১২. #গীবত করা;
১৩. খারাপ উপনামে ডাকা;
১৪. অভিশাপ দেয়া;
১৫. সামনা-সামনি প্রশংসা করা;
১৬. মিথ্যা স্বপ্ন বলা।...........
'
#অবশেষে বলবো, আমরা যেন নিম্নোক্ত হাদিসের উপর আমাল করতে উদ্যোগী হই-
'
#সাহাল ইবনে সায়াদ রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (অঙ্গ জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ) সম্বন্ধে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। বুখারী ৬৪৭৪, ৬৮০৭, তিরমিযী ২৪০৮, আহমাদ ২২৩১৬
'
১. মিথ্যা বলা;
২. খারাপ ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা;
৩. অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা;
৪. গালি দেয়া;
৫. নিন্দা করা;
৬. #অপবাদ দেয়া;
৭. #চোগলখুরী করা;
৮. বিনা প্রয়োজনে #গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া;
৯. মোনাফিকী করা ও #দুই #মুখে কথা বলা;
১০. বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা
১১. বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা;
১২. #গীবত করা;
১৩. খারাপ উপনামে ডাকা;
১৪. অভিশাপ দেয়া;
১৫. সামনা-সামনি প্রশংসা করা;
১৬. মিথ্যা স্বপ্ন বলা।...........
'
#অবশেষে বলবো, আমরা যেন নিম্নোক্ত হাদিসের উপর আমাল করতে উদ্যোগী হই-
'
#সাহাল ইবনে সায়াদ রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (অঙ্গ জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ) সম্বন্ধে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। বুখারী ৬৪৭৪, ৬৮০৭, তিরমিযী ২৪০৮, আহমাদ ২২৩১৬
Friday, 2 March 2018
আমরা কেন মাযহাব মানবো
আমরা কেন মাযহাব মানবো
✍........... হাফেজ মাওলানা আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী
#প্রশ্নঃ মাযহাবের ইমাম মানা ফরজ কিনা? না মানলে তার পরিণতি কি হবে? ক্বোরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানাবেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল আবছার নূরী (প্রশ্নকারী)
পাঁচ পুকুরিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
#উত্তরঃ মাযহাব আরবী শব্দ, অর্থ হলো নির্দিষ্ট পথ বা নির্দিষ্ট মতাদর্শ যার ওপর চলা হয়। চার(০৪) মাযহাব তথা হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ব্যাপারে ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়েছে যে কোন একটি মাযহাব অনুসরণ করা সাধারণ মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। মাযহাব মানা বা অনুসরণ করার ব্যাপারে আল্লামা যারকাশী [رحمه الله عليه] তাঁর রচিত ‘আল্ বাহরুল মুহীত’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-
والحق أن العصر خلا عن المجتهد المطلق لا عن مجتهد عن مذاهب الاربعة وقد وقع الاتفاق بين المسلمين على أن الحق منحصر فى هذه الاربعة- وحينئذ فلا يجوز العمل بغيرها- فلا يجوز أن يصح الاجتهاد الافيها-
অর্থাৎ হক তথা স্বীকৃত বিষয় হলো বর্তমান যুগে কোনো স্বয়ংসম্পন্ন মুজতাহিদ (মুজতাহিদে মুতলাক) নেই। তবে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, হক এই চার(০৪) মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সুতরাং এ চার(০৪) মাযহাব বাদ দিয়ে আমল করা বৈধ নয়। এ চার(০৪) মাযহাবের মধ্যেই কেবল ইজতিহাদ করা যাবে। [আল্ বাহরুল মুহীত, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৪]
ক্বোরআনে পাকে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন-
يوم ندعو كل اُناسٍ بامامهم-
অর্থাৎ "যে দিন আমি প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো।" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় 'তাফসিরে রূহুল বয়ান'-এ বলা হয়েছে-
اومقدم فى الدِّيْنِ فيقال يا حنفيى يا شافعىُّ-
অর্থাৎ কিংবা ইমাম হচ্ছেন ধর্মীয় পথের দিশারী, তাই কিয়ামতের দিন লোকদেরকে ‘হে হানাফী’ ‘হে শাফেঈ’ এভাবে আহ্বান করা হবে। এ থেকে বোঝা গেল, কিয়ামতের দিন সবাইকে তার ইমামের সাথে ডাকা হবে। আর তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে যে কোন ইমামের অর্থাৎ চার মাযহাব হতে যে কোন একটি মাযহাব মানতেই হবে। আর যে ইমাম বা কোন মাযহাব মানেনি সেদিন তার ইমাম হবে শয়তান।
ক্বোরআনুল করীমের সূরা কাহফের-واذكر رَبَّكَ اذا نَسِيْتَ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে সাবীতে’ উল্লেখ করা হয়েছে-
ولايجوز تقليدُ ماعدا المذاهب الاربعة ولو وافق قول الصحابه والحديث الصحيح والاية فالخارج عن المذاهب الاربعة ضالُّ مضل- الخ
অর্থাৎ চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরণ জায়েয নেই্ যদিও তা সাহাবীদের উক্তি, সহীহ হাদিস ও ক্বোরআনের আয়াতের সাথে সঙ্গতি পূর্ণ হয়। আর যে ব্যক্তি এ চার (হানাফী, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী) মাযহাবের কোন একটির অনুসারী নয়, সে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী। তাই সাধারণ মুসলমানদের জন্য চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা বা অনুসরণ করা ওয়াজিব ও অবশ্য কর্তব্য।
সুতরাং বর্তমান সময়ে যারা চার মাযহাবের কোন একটিকে অনুসরণ করে না বরং মাযহাবের ইমামগণ বিশেষত ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) সম্পর্কে বাঝে মন্তব্য ও কটূক্তি করে নিঃসন্দেহে তারা গোমরা ও পথভ্রষ্ট। এ বিষয়ে তরজুমান প্রশ্নোত্তর বিভাগে পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তা দেখার পরামর্শ রইল।
#প্রশ্ন: আমি একজন ছাত্র আমরা জানি, চার মাজহাবের যে কোন একটি মাজহাব অনুসরণ করতে হবে। যা অপরিহার্য বিষয়। সাহেবাইন তথা হযরত ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ [رضى الله عنهما] যদি কোন মাসয়ালার সমাধান প্রদান করে থাকেন, তাহলে তা কোন মাজহাব অনুসৃত বলে ধরে নিতে হবে? এবং সাহেবাইন কোন মাজহাবের ইমাম ও অনুসারী বলে বিবেচ্য হবে?
মুহাম্মদ এহসানুল করিম (প্রশ্নকারী)
বেতাগী, আমীরপাড়া, রাঙ্গুনীয়া, চট্টগ্রাম।
#উত্তর: সাহেবাইন তথা ইমাম ইউসুফ [رحمه الله عليه] ও ইমাম মুহাম্মদ [رحمه الله عليه] হলেন, মুজতাহিদগণের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের মুজতাহিদ যাদেরকে ফোকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় 'মুজতাহিদ ফিল মাযহাব' বলা হয়। যারা কায়দা ও কানুনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের মুজতাহিদগণকে অনুসরণ করে থাকেন। সাহেবাইন রাহেমাহুমাল্লাহ্ উসূল ও কানুনের ক্ষেত্রে ইমাম আযম আবু হানিফা [رحمه الله عليه]'র অনুসারী। তাঁরা ক্বোরআন করিম, সুন্নাতে রসূল [ﷺ] তথা শরিয়তের দলিল সমূহ থেকে ফিকহের মাসয়ালা বের করার ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানিফা [رحمه الله عليه]'র নিঃসৃত কানুনসমূহকে অনুসরণ করে থাকেন বিধায় শরিয়তের পরিভাষায় তাঁরা হানাফী হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের ইজতেহাদ ও গবেষণা দ্বারা বেরকৃত মাসয়ালা সমূহকে হানাফী মাযহাবের মাসয়ালা হিসেবে গণ্য করা হবে।
[মুকদ্দামায়ে শামী কৃত: ইমাম ইবনে আবেদীন হানাফী [رحمه الله عليه] এবং জা-আল হক্ব কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী [رحمه الله عليه] ইত্যাদি]
✍........... হাফেজ মাওলানা আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী
#প্রশ্নঃ মাযহাবের ইমাম মানা ফরজ কিনা? না মানলে তার পরিণতি কি হবে? ক্বোরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানাবেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল আবছার নূরী (প্রশ্নকারী)
পাঁচ পুকুরিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।
#উত্তরঃ মাযহাব আরবী শব্দ, অর্থ হলো নির্দিষ্ট পথ বা নির্দিষ্ট মতাদর্শ যার ওপর চলা হয়। চার(০৪) মাযহাব তথা হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ব্যাপারে ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়েছে যে কোন একটি মাযহাব অনুসরণ করা সাধারণ মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। মাযহাব মানা বা অনুসরণ করার ব্যাপারে আল্লামা যারকাশী [رحمه الله عليه] তাঁর রচিত ‘আল্ বাহরুল মুহীত’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-
والحق أن العصر خلا عن المجتهد المطلق لا عن مجتهد عن مذاهب الاربعة وقد وقع الاتفاق بين المسلمين على أن الحق منحصر فى هذه الاربعة- وحينئذ فلا يجوز العمل بغيرها- فلا يجوز أن يصح الاجتهاد الافيها-
অর্থাৎ হক তথা স্বীকৃত বিষয় হলো বর্তমান যুগে কোনো স্বয়ংসম্পন্ন মুজতাহিদ (মুজতাহিদে মুতলাক) নেই। তবে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, হক এই চার(০৪) মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সুতরাং এ চার(০৪) মাযহাব বাদ দিয়ে আমল করা বৈধ নয়। এ চার(০৪) মাযহাবের মধ্যেই কেবল ইজতিহাদ করা যাবে। [আল্ বাহরুল মুহীত, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৪]
ক্বোরআনে পাকে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন-
يوم ندعو كل اُناسٍ بامامهم-
অর্থাৎ "যে দিন আমি প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো।" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় 'তাফসিরে রূহুল বয়ান'-এ বলা হয়েছে-
اومقدم فى الدِّيْنِ فيقال يا حنفيى يا شافعىُّ-
অর্থাৎ কিংবা ইমাম হচ্ছেন ধর্মীয় পথের দিশারী, তাই কিয়ামতের দিন লোকদেরকে ‘হে হানাফী’ ‘হে শাফেঈ’ এভাবে আহ্বান করা হবে। এ থেকে বোঝা গেল, কিয়ামতের দিন সবাইকে তার ইমামের সাথে ডাকা হবে। আর তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে যে কোন ইমামের অর্থাৎ চার মাযহাব হতে যে কোন একটি মাযহাব মানতেই হবে। আর যে ইমাম বা কোন মাযহাব মানেনি সেদিন তার ইমাম হবে শয়তান।
ক্বোরআনুল করীমের সূরা কাহফের-واذكر رَبَّكَ اذا نَسِيْتَ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে সাবীতে’ উল্লেখ করা হয়েছে-
ولايجوز تقليدُ ماعدا المذاهب الاربعة ولو وافق قول الصحابه والحديث الصحيح والاية فالخارج عن المذاهب الاربعة ضالُّ مضل- الخ
অর্থাৎ চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরণ জায়েয নেই্ যদিও তা সাহাবীদের উক্তি, সহীহ হাদিস ও ক্বোরআনের আয়াতের সাথে সঙ্গতি পূর্ণ হয়। আর যে ব্যক্তি এ চার (হানাফী, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী) মাযহাবের কোন একটির অনুসারী নয়, সে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী। তাই সাধারণ মুসলমানদের জন্য চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা বা অনুসরণ করা ওয়াজিব ও অবশ্য কর্তব্য।
সুতরাং বর্তমান সময়ে যারা চার মাযহাবের কোন একটিকে অনুসরণ করে না বরং মাযহাবের ইমামগণ বিশেষত ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) সম্পর্কে বাঝে মন্তব্য ও কটূক্তি করে নিঃসন্দেহে তারা গোমরা ও পথভ্রষ্ট। এ বিষয়ে তরজুমান প্রশ্নোত্তর বিভাগে পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তা দেখার পরামর্শ রইল।
#প্রশ্ন: আমি একজন ছাত্র আমরা জানি, চার মাজহাবের যে কোন একটি মাজহাব অনুসরণ করতে হবে। যা অপরিহার্য বিষয়। সাহেবাইন তথা হযরত ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ [رضى الله عنهما] যদি কোন মাসয়ালার সমাধান প্রদান করে থাকেন, তাহলে তা কোন মাজহাব অনুসৃত বলে ধরে নিতে হবে? এবং সাহেবাইন কোন মাজহাবের ইমাম ও অনুসারী বলে বিবেচ্য হবে?
মুহাম্মদ এহসানুল করিম (প্রশ্নকারী)
বেতাগী, আমীরপাড়া, রাঙ্গুনীয়া, চট্টগ্রাম।
#উত্তর: সাহেবাইন তথা ইমাম ইউসুফ [رحمه الله عليه] ও ইমাম মুহাম্মদ [رحمه الله عليه] হলেন, মুজতাহিদগণের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের মুজতাহিদ যাদেরকে ফোকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় 'মুজতাহিদ ফিল মাযহাব' বলা হয়। যারা কায়দা ও কানুনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের মুজতাহিদগণকে অনুসরণ করে থাকেন। সাহেবাইন রাহেমাহুমাল্লাহ্ উসূল ও কানুনের ক্ষেত্রে ইমাম আযম আবু হানিফা [رحمه الله عليه]'র অনুসারী। তাঁরা ক্বোরআন করিম, সুন্নাতে রসূল [ﷺ] তথা শরিয়তের দলিল সমূহ থেকে ফিকহের মাসয়ালা বের করার ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানিফা [رحمه الله عليه]'র নিঃসৃত কানুনসমূহকে অনুসরণ করে থাকেন বিধায় শরিয়তের পরিভাষায় তাঁরা হানাফী হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের ইজতেহাদ ও গবেষণা দ্বারা বেরকৃত মাসয়ালা সমূহকে হানাফী মাযহাবের মাসয়ালা হিসেবে গণ্য করা হবে।
[মুকদ্দামায়ে শামী কৃত: ইমাম ইবনে আবেদীন হানাফী [رحمه الله عليه] এবং জা-আল হক্ব কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী [رحمه الله عليه] ইত্যাদি]
কোরআনের আলোকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী
নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল
কোরআন শরীফের আলোকে
যে কোরআন বিশ্বস করবেনা সেই কাফের
আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين-
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)
আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হলঃ-
দলিল নং ১
বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني محمدا صلي الله عليه ؤسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)।
দলিল নং ২
ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني باالنؤر محمدا صلي الله عليه ؤسلم الذي انار الله به الحق واظهربه الاسلام ومحق به الشرك-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
দলিল নং ৩
মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم انما سماه الله نور الانه يهداى بالنور في الظلام-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
দলিল নং ৪
ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-
والنور محمد عليه والسلام لانه يهتداي به كما سمي سراجا منيرا-
আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।
দলিল নং ৫
ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-
ان المراد بالنور محمد صلي الله عليه و سلم وبالكتاب القران-
অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন-
هذا ضعيف لان العطف يوجب المغايرة بين المعطوف والمعطوف عليه-
এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা‘তুফ (সংযোজিত) ও মা‘তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।
দলিল নং ৬
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ
قد جاءكم من الله نور هو نور النبى صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক।
(তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)
দলিল নং ৭
আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-
قد جاءكم من الله نور هو نورعظيم هو نور الانوارالنبى المختار صلى الله عليه وسلم الى ذهب قتادة والزجاج-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।
দলিল নং ৮
আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন-
قيل المراد باالاول هو الرسول صلى الله عليه وسلم وبالثانى القران-
অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯)
আর অগ্রসর হয়ে বলেন-
سمى الرسول نورا لان اول شيئ اظهره الحق بنور قدرته من ظلمة العدم كان نور محمد صلي الله عليه و سلم كما قال اول ما خلق الله نورى-
অর্থ: আল্লাহ তায়া‘লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া‘লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া‘লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।
দলিল নং ৯
ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-
قد جاءكم من الله نور يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)
এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্রন্থর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূরঃ-
সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪।
২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১,
৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯,
৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭,
৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬,
৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড, পৃ- ১৬৩,
৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮,
৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪,
১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮,
১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২,
১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০,
১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫।
সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খন্ড, পৃ- ২০১,
২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪,
৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮।
সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫ঃ-
১। তাফসীরে ইবনে আববাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪,
২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬।
সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬ঃ-
১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬,
২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।
হাদীস শরীফের আলোকেঃ
দলিল নং ১০
عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال : قلت يا رسول الله بابى انت وامى اخبرنى عن اول شئ خلق الله تعالى قبل الاشياء ؟ قال يا جابر ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نورنبيك من نوره فجعل ذالك النور يدور بالقدرة حيث شاء الله تعالى ولم يكن في ذالك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا ملك ولا سماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جن ولا انس – فلما اراد الله تعالى ان يخلق الخلق قسم ذالك النور اربعة اجزاء فخلق من الجزء الاول القلم و من الثاني اللوح ومن الثالث العرش ثم قسم الجزء الربع اربعة اجزاء فخلق من الاول حملة العرش ومن الثانى الكرسى ومن الثالث باقى الملائكة ثم قسم الربع اربع اجزاء فخلق من الاول السماوات ومن الثانى الارضين ومن الثالث الجنة والنار—————————————– الخ-
অর্থঃ হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্ত্তর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া’লা কোন বস্ত্তটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়’লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়’লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আর ছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয় অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে আবারও চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১)।
দলিল নং ১১
عن كعب الخبار رضى الله عنه قال : لما الله ان يخلق المخلوقات بسط الارض وقع السماء وقبض قبصة من نوره و قال لها كونى محمدا فصارت عمودا من نوره فعلا حتى انتهى الى حجب العظمة فسجد و قال فى سجوده الحمد لله فقال الله سبحانه و تعالى لهذا خلقتك و سميتك محمد صلى الله عليه و سلم منك ابدا الخلق و بك اختم الرسل-
অর্থঃ হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন‘ তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।’ অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল,‘আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব । (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০)।
দলিল নং ১২
عن عائشة رضي الله عنها قالة : كنة في الشجر ثوبا لرسول الله صلي عليه و سلم فانطفا المصباح و سقطة الابرة من يدي فدخل علي رسول الله صلي الله عليه و سلم فاضاء من نور و جهه فجدة الابرة-
অর্থঃ ‘‘হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুজে পেলাম’’। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর আন-নে’মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।
দলিল নং ১৩
اخرج ابن ابي عمر العدني فى مسنده عن ابن عباس ان قريشا كانت نورا بين يدي الله تعالى قبل ان يخلق ادم بالفى عام يسبح ذالك النور و تسبح الملائكة بتسيحه فلما خلق الله ادم القي ذالك النور فى صلب قال رسول الله صل اله عليه و سلم فاهبطنى الله الى الارض فى صلب ادم (عليه السلام) و جعلنى فى صلب نوح عليه السلام و ق ف بى فى صلب ابرهيم عليه السلام ثم لم يزل الله ينقلبى من الصلاب الكريمة و الارحام الطاهؤة حتى اخرجنى من بين ابوى لم يلتقيا على سفاح قط-
অর্থঃ হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,‘‘ হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রববুল আলামীন ইরশাদ করলেন,‘‘ ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেন আমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯)
দলিল নং ১৪
ইমাম হাফেজ আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রা) বলেন-
و قد سماه الله تعالى فى و سراجا منيرا فقال تعالي قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين و قال تعالى انا ارسلناك شاهدا و مبشيرا و نذيرا و داعيا الى الله باذنه و سراجا منيرا و قال فى غير هذا الموضع انه كان لاظل لشخصه في شمس و لا قمر لانه كان نورا الذباب كان لا يقع على جسده و لا ثيابه-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া‘লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাক মোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২)।
দলিল নং ১৫
وعن ابلى هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم سائل جبريل عليه السلام فقال يا جبريل كم عمرك من السنين فقال يا رسول الله مست اعلم غير ان فى الحجاب الرابع نجما يطلع في سبعين الف سنة مرة رايته اثنين و سبعين الف مرة فقال يا جبريل و عزة ربى جل جلا له انا ذالك الكوب–
অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিবা্রঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন , ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়‘লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম ইরশাদ করলেন মহান রাববুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকা আমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)।
দলিল নং ১৬
لم يكن له صلى الله عليه و سلم ظل في شمس و لا قمر لانه كان نورا-
অর্থঃ ‘‘সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর’’। (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০)।
এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্রন্থ এর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূর তা নিম্নরূপঃ-
১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া, তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খন্ড, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী । ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, কৃতঃ সিরাজুল ইসলাম।
Thursday, 1 March 2018
মানব জাতির গৌরব হযরত মা ফাতেমা রাঃ
নবী-নন্দিনী ফাতেমা (সাঃ) মানবজাতির গৌরব
পৃথিবীতে এমন কয়েকজন অসাধারণ মানুষ জন্ম নিয়েছেন
যাঁরা মানবজাতির চিরন্তন গৌরব, যাঁরা আদর্শ মানুষের প্রতীক তথা মানবতা ও মনুষ্যত্বের পূর্ণতার মডেল। এ ধরনের মানুষ পৃথিবীতে জন্ম না নিলে আদর্শের দিক থেকে মানবজাতির মধ্যে বিরাজ করতো ব্যাপক অপূর্ণতা এবং আদর্শিক শূণ্যতা ও আধ্যাত্মিক অপূর্ণতার অশেষ ঘূর্ণাবর্তে মানবজাতি হতো বিভ্রান্ত, ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নতির সোপান থেকে চিরকালের জন্য থাকতো পিছিয়ে। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে তিনি এমন কয়েকজন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন যাঁরা মানুষের জন্য সব ধরনের পূর্ণতা ও উন্নতির আদর্শ। নবী-নন্দিনী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) সেইসব অসাধারণ মানুষেরই একজন। এটা স্বাভাবিক যে এ ধরনের মানুষের অকাল বিদায় বা বিয়োগ-বিধুর শাহাদত শোকের সাহারায় সৃষ্টি করে অনন্ত মাতম। শোকের এই অনন্ত মাতমে একদিকে যেমন তাঁদের প্রতি খোদাভীরু মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালবাসা বিধৃত হয়, তেমনি শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঐসব মহান ব্যক্তিত্বের আদর্শ এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও সুদৃঢ় করা সম্ভব হয়।
হযরত ফাতেমা জাহরা (সাঃ) ছিলেন নারী ও পুরুষ তথা গোটা মানব জাতির জন্য অসাধারণ ত্যাগ, বিশ্বস্ততা, অন্যায়ের ব্যাপারে আপোসহীনতা, সততা, দানশীলতা, ধৈর্য, চারিত্রিক পবিত্রতা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টিসহ অনেক মহান স্বর্গীয় গুণের আদর্শ। আর এ জন্যেই তাঁর উপাধি ছিল আস-সিদ্দিক্বা বা সত্য-নিষ্ঠ, আল-মুবারাকাহ বা বরকতপ্রাপ্ত, আত-ত্বাহিরা বা পবিত্র, আল-মারজিয়া বা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট, আয যাকিয়া বা সতী, আয জাহরা বা দ্যূতিময় প্রভৃতি। স্নেহময়ী জননীর মত বিশ্বনবী (সাঃ)'র সেবা-যত্ন করা এবং বিপদের সময় তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য মহীয়সী নারী ফাতিমা (সাঃ)'র অন্য একটি নাম উম্মে আবিহা বা পিতার জননী। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁকে সকল যুগের নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহর দরবারে তাঁর বিশেষ মর্যাদার কারণে তাঁকে দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতেন। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ফাতেমা আমার দেহের অংশ, যা কিছু তাকে সন্তুষ্ট করে তা আমাকে সন্তুষ্ট করে এবং যা কিছু আমাকে সন্তুষ্ট করে তা আল্লাহকেও সন্তুষ্ট করে, আর যা কিছু ফাতেমাকে কষ্ট দেয়, তা আমাকে কষ্ট দেয়, আর যা আমাকে কষ্ট দেয়, তা আল্লাহকেও কষ্ট দেয়। হযরত ফাতিমা (সাঃ) বেহেশতে সর্ব প্রথম প্রবেশ করবেন বলে বিশ্বনবী- সাঃ উল্লেখ করেছেন।
অনেক ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র কোরআনের সূরা কাওসার-এ উল্লেখিত কাওসার বলতে হযরত ফাতেমা (সাঃ)কেই বোঝানো হয়েছে। মক্কার কাফের ও মুশরিকরা যখন বিশ্বনবী (সাঃ)কে আবতার বা নির্বংশ বলে উপহাস করতো, এবং রাসূলের ওফাতের পরই তার ধর্ম শেষ হয়ে যাবে বলে প্রচার করতো তখন এই সূরা নাজেল হয়। এ সূরায় কাফেররাই নির্বংশ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত ফাতিমা (সাঃ) 'র মাধ্যমে রাসূলে পাক (সাঃ)'র বংশধারা আজো অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে নির্মূল হয়ে গেছে আবু লাহাব ও আবু জাহেলদের বংশধর।
হযরত ফাতিমা (সাঃ) ছিলেন বিশ্বনবী (সাঃ) 'র আহলে বাইত বা পবিত্র বংশধারায় জন্ম নেয়া মুসলমানদের ১১ জন ইমামের জননী। বিশ্বনবী (সাঃ) ও স্বামী আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আঃ)'র পর এই ১১ জনই ইসলামকে সব সংকট ও দূর্যোগের কবল থেকে রক্ষার তরী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। এরই প্রমাণ দেখা যায় কারবালায় তাঁর পুত্র হযরত ইমাম হোসাইন (আঃ) ও এর আগে হযরত ইমাম হাসান (আঃ)'র নজিরবিহীন আত্মত্যাগে। মুসলমানদের নেতা হিসেবে ও বেহেশতী যুবকদের সর্দার হিসেবে এই দুই মহাপুরুষকে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছেন হযরত ফাতেমা (সাঃ)। বিশ্বনবী (সাঃ) তাঁদেরকে নিজ সন্তান বলে উল্লেখ করতেন।
একজন পরিপূর্ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে হযরত ফাতিমা (সাঃ) এটা প্রমাণ করেছেন যে, পরিপূর্ণতার শিখরে ওঠার জন্য নারী হওয়া বা পুরুষ হওয়া জরুরী কোনো শর্ত নয়। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন এমন এক যুগে যখন আরবরা নারীকে মনে করতো কেবল ভোগের সামগ্রী এবং জাত্যাভিমানী আরবদের ঘরে কণ্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে তারা অমর্যাদার ভয়ে কণ্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত বা গোপনে মেরে ফেলতো । কিন্তু মহান আল্লাহ তার সর্বশেষ রাসূল ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের ঘরে একজন কন্যা সন্তান পাঠিয়ে নারী জাতির জন্য অশেষ সম্মান ও মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন।
হযরত ফাতিমা (সাঃ) ছিলেন একজন আদর্শ জননী, একজন আদর্শ স্ত্রী বা গৃহিনী, একজন আদর্শ সমাজ-সেবিকা। অর্থাৎ মুসলিম নারী যে শালীনতা বজায় রেখে জীবনের সবক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তাঁর দৃষ্টান্ত দেখিয়ে গেছেন নবী-নন্দিনী। আজকের যুগে যেসব মহিলা বা বুদ্ধিজীবী নারী-মুক্তির কথা ভাবছেন তাদের জন্য প্রকৃত আদর্শ হওয়া উচিত হযরত ফাতিমা (সাঃ)।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র ওফাতের পর খুব বেশি দিন বাঁচেন নি হযরত ফাতিমা (সাঃ)। এ সময় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও বাণীকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য অসম-সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন নবী-নন্দিনী। বিশ্বনবী (সাঃ)'র ওসিয়ত প্রচার এবং কিভাবে মুসলমানরা বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবে তা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে মনে করেন অনেক মুসলমান বিশেষজ্ঞ, ঐতিহাসিক ও আলেম। তাদের মতে, ঐসব নির্যাতনের কারণেই তাঁকে অকালে শাহাদত বরণ করতে হয়েছে। এমনকি অনেকে মনে করেন, তাঁর কবরও অবমাননার শিকার হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি তাকে গোপনে গভীর রাতে দাফন করতে বলেছিলেন স্বামী আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ)কে। আজো সকল শ্রেষ্ঠ গুণে গুণান্বিত এই মহিয়সী ও নীর্ভিক সংগ্রামী নারীর কবর অচিহ্নিত। অন্যদিকে অন্য অনেক মুসলমান মনে করেন, রাসূল (সাঃ)'র বিয়োগ-ব্যথায় শোকাকুল হযরত ফাতিমা (সাঃ) স্বাভাবিকভাবেই মারা গিয়েছিলেন এবং তিনি কারো নির্যাতনের কারণে মারা যান নি। যাই হোক্, হযরত ফাতিমা (সাঃ) মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও মুক্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। তাই মুক্তিকামী মুসলমানরা আজও কেবল তাঁর পবিত্র নাম স্মরণ করেই ইসলামের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে দ্বিধা বোধ করেন না।
হযরত ফাতিমা (সাঃ)'র সান্নিধ্য ও সেবা না পেলে আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ)'র জীবনও পুরোপুরি বিকশিত ও পরিপূর্ণতা লাভ করতো না। তাঁরা ছিলেন একে-অপরের প্রতি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) হযরত ফাতিমা (সাঃ)-কে মানুষের আকৃতিতে ফেরেশতা বলেও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলতেন, আমি যখনই বেহেশতের সুবাস পেতে চাইতাম তখনই কণ্যা ফাতেমার ঘ্রাণ নেই। রাসূল (সাঃ) একবার প্রাণপ্রিয় কণ্যাকে বলেছিলেন, হে ফাতেমা! আল্লাহ তোমাকে নির্বাচিত করেছেন, তোমাকে পরিপূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সজ্জিত করেছেন এবং তোমাকে বিশ্বের নারীকূলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
হযরত ইমাম হাসান মুজতাবা (আঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, একবার শুক্রবার রাতে দেখলাম মা ফাতিমা (সাঃ) এবাদতে মগ্ন। একটানা রূকু ও আর সেজদায় থাকতে থাকতে ভোরের আলো ফুটে উঠলো। আমি শুনতে পেলাম তিনি মুমিন নারী ও পুরুষের জন্য অনেক দোয়া করছেন, কিন্তু নিজের জন্য কোনো দোয়াই করলেন না। আমি প্রশ্ন করলাম, মা, আপনি কেন নিজের জন্য দোয়া করলেন না, যেভাবে অন্যরা দোয়া করে থাকে? তিনি জবাবে বললেন, হে আমার পুত্র! আগে প্রতিবেশির কথা ভাবতে হবে, এরপর নিজের ঘরের কথা ... ।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করা ছাড়াও প্রায়ই রোজা রাখা ও গরীব-দূঃখীকে অসাধারণ মাত্রায় দান-খয়রাত করা ছিল হযরত ফাতিমা (সাঃ)'র একটি বড় বৈশিষ্ট্য। জনসাধারণ বা কারো উদ্দেশ্যে যে কোনো বক্তব্য রাখার আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে মহান আল্লাহর বিভিন্ন নেয়ামতের কথা খুব সুন্দর ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরে আল্লাহর প্রশংসা করা ছিল তাঁর অন্য একটি বড় বৈশিষ্ট্য। বিশ্বনবী (সাঃ)'র আহলে বাইতের অন্য সদস্যদের মত তিনিও কখনও অন্যায়ের সাথে আপোস করেন নি। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা বা সক্রিয় থাকার মধ্যে তিনি খুঁজে পেতেন আনন্দ। হযরত ফাতিমা (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর সেবায় মশগুল হয়ে যে সন্তুষ্টি পাই তা আমাকে অন্য সব সন্তুষ্টি বা আনন্দ থেকে বিরত রাখে এবং সব সময় মহান আল্লাহর সুন্দর দৃষ্টি আমার দিকে নিবদ্ধ রাখার প্রার্থণা ছাড়া আমার অন্য কোনো প্রত্যাশা নেই।
হযরত ফাতিমা জাহরা (সাঃ)'র আরেকটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে এবং তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের তৌফিক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে শেষ করবো আজকের এই আলোচনা। নবী-নন্দিনী (সাঃ) বলেছেন, পৃথিবীতে তিনটি জিনিস আমার খুবই প্রিয়। আল্লাহর পথে ব্যয়, রাসূলে খোদা (সাঃ)র চেহারার দিকে তাকানো এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। পবিত্র কোরআনের আয়াত শ্রবণ মুসলমানদেরকে মুক্তির তীরে পৌঁছে দেয়।(রেডিও তেহরান)
Subscribe to:
Posts (Atom)










