Friday, 2 March 2018

আমরা কেন মাযহাব মানবো

আমরা কেন মাযহাব মানবো

✍........... হাফেজ মাওলানা আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী

 #প্রশ্নঃ মাযহাবের ইমাম মানা ফরজ কিনা? না মানলে তার পরিণতি কি হবে? ক্বোরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানাবেন।

 সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল আবছার নূরী (প্রশ্নকারী)
 পাঁচ পুকুরিয়া, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

 #উত্তরঃ মাযহাব আরবী শব্দ, অর্থ হলো নির্দিষ্ট পথ বা নির্দিষ্ট মতাদর্শ যার ওপর চলা হয়। চার(০৪) মাযহাব তথা হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ব্যাপারে ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়েছে যে কোন একটি মাযহাব অনুসরণ করা সাধারণ মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। মাযহাব মানা বা অনুসরণ করার ব্যাপারে আল্লামা যারকাশী [رحمه الله عليه] তাঁর রচিত ‘আল্ বাহরুল মুহীত’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-

 والحق أن العصر خلا عن المجتهد المطلق لا عن مجتهد عن مذاهب الاربعة وقد وقع الاتفاق بين المسلمين على أن الحق منحصر فى هذه الاربعة- وحينئذ فلا يجوز العمل بغيرها- فلا يجوز أن يصح الاجتهاد الافيها-

 অর্থাৎ হক তথা স্বীকৃত বিষয় হলো বর্তমান যুগে কোনো স্বয়ংসম্পন্ন মুজতাহিদ (মুজতাহিদে মুতলাক) নেই। তবে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, হক এই চার(০৪) মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সুতরাং এ চার(০৪) মাযহাব বাদ দিয়ে আমল করা বৈধ নয়। এ  চার(০৪) মাযহাবের মধ্যেই কেবল ইজতিহাদ করা যাবে। [আল্ বাহরুল মুহীত, ৮ম  খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭৪]

ক্বোরআনে পাকে আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন-
يوم ندعو كل اُناسٍ بامامهم-
 অর্থাৎ "যে দিন আমি প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো।" এই আয়াতের ব্যাখ্যায় 'তাফসিরে রূহুল বয়ান'-এ বলা হয়েছে-

اومقدم  فى الدِّيْنِ فيقال يا حنفيى يا شافعىُّ-
 অর্থাৎ কিংবা ইমাম হচ্ছেন ধর্মীয় পথের দিশারী, তাই কিয়ামতের দিন লোকদেরকে ‘হে হানাফী’ ‘হে শাফেঈ’ এভাবে আহ্বান করা হবে। এ থেকে বোঝা গেল, কিয়ামতের দিন সবাইকে তার ইমামের সাথে ডাকা হবে। আর তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে যে কোন ইমামের অর্থাৎ চার মাযহাব হতে যে কোন একটি মাযহাব মানতেই হবে। আর যে ইমাম বা কোন মাযহাব মানেনি সেদিন তার ইমাম হবে শয়তান।

ক্বোরআনুল করীমের সূরা কাহফের-واذكر  رَبَّكَ اذا نَسِيْتَ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে সাবীতে’ উল্লেখ করা হয়েছে-

 ولايجوز تقليدُ ماعدا المذاهب الاربعة ولو وافق قول الصحابه والحديث الصحيح والاية فالخارج عن المذاهب الاربعة ضالُّ مضل- الخ

 অর্থাৎ চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের তাকলীদ বা অনুসরণ জায়েয নেই্ যদিও তা সাহাবীদের উক্তি, সহীহ হাদিস ও ক্বোরআনের আয়াতের সাথে সঙ্গতি পূর্ণ হয়। আর যে ব্যক্তি এ চার (হানাফী, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী) মাযহাবের কোন একটির অনুসারী নয়, সে পথভ্রষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী। তাই সাধারণ মুসলমানদের জন্য চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা বা অনুসরণ করা ওয়াজিব ও  অবশ্য কর্তব্য।

 সুতরাং বর্তমান সময়ে যারা চার মাযহাবের কোন একটিকে অনুসরণ করে না বরং মাযহাবের ইমামগণ বিশেষত ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) সম্পর্কে বাঝে মন্তব্য ও কটূক্তি করে নিঃসন্দেহে তারা গোমরা ও পথভ্রষ্ট। এ বিষয়ে তরজুমান প্রশ্নোত্তর বিভাগে পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তা দেখার পরামর্শ রইল।

#প্রশ্ন: আমি একজন ছাত্র আমরা জানি, চার মাজহাবের যে কোন একটি মাজহাব অনুসরণ করতে হবে। যা অপরিহার্য বিষয়। সাহেবাইন তথা হযরত ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ [رضى الله عنهما] যদি কোন মাসয়ালার সমাধান প্রদান করে থাকেন, তাহলে তা কোন মাজহাব অনুসৃত বলে ধরে নিতে হবে? এবং সাহেবাইন কোন মাজহাবের ইমাম ও অনুসারী বলে বিবেচ্য হবে?

মুহাম্মদ এহসানুল করিম (প্রশ্নকারী)
বেতাগী, আমীরপাড়া, রাঙ্গুনীয়া, চট্টগ্রাম।

 #উত্তর: সাহেবাইন তথা ইমাম ইউসুফ [رحمه الله عليه] ও ইমাম মুহাম্মদ [رحمه الله عليه] হলেন, মুজতাহিদগণের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের মুজতাহিদ যাদেরকে ফোকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় 'মুজতাহিদ ফিল মাযহাব' বলা হয়। যারা কায়দা ও কানুনের ক্ষেত্রে প্রথম স্তরের মুজতাহিদগণকে অনুসরণ করে থাকেন। সাহেবাইন রাহেমাহুমাল্লাহ্ উসূল ও কানুনের ক্ষেত্রে ইমাম আযম আবু হানিফা [رحمه الله عليه]'র অনুসারী। তাঁরা ক্বোরআন করিম, সুন্নাতে রসূল [ﷺ] তথা শরিয়তের দলিল সমূহ থেকে ফিকহের মাসয়ালা বের করার ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানিফা [رحمه الله عليه]'র নিঃসৃত কানুনসমূহকে অনুসরণ করে থাকেন বিধায় শরিয়তের পরিভাষায় তাঁরা হানাফী হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের ইজতেহাদ ও গবেষণা দ্বারা বেরকৃত মাসয়ালা সমূহকে হানাফী মাযহাবের মাসয়ালা হিসেবে গণ্য করা হবে।

[মুকদ্দামায়ে শামী কৃত: ইমাম ইবনে আবেদীন হানাফী [رحمه الله عليه] এবং জা-আল হক্ব কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী [رحمه الله عليه] ইত্যাদি]

No comments:

Post a Comment